তারাপীঠের হোটেলে আগুনে ৮ পুণ্যার্থীর মৃত্যু, ‘কাউকে রেয়াত নয়’, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

তারাপীঠের ‘বিদেশিনী’ হোটেলে ভয়াবহ আগুনে ৮ পুণ্যার্থীর মৃত্যু। অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মধ্যে তদন্তের নির্দেশ, গাফিলতি প্রমাণিত হলে কাউকে রেয়াত নয় মুখ্যমন্ত্রীর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু ঘিরে শোকের ছায়া বীরভূমজুড়ে। সোমবার ভোরে তারাপীঠ থানার কাছে ‘বিদেশিনী’ হোটেলে আগুন লাগে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে কাউকে রেয়াত করা হবে না।

শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দিতে ভিড় করেছিলেন বহু পুণ্যার্থী। তাঁদেরই কয়েকজন ওই হোটেলে ছিলেন। ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ হোটেলের নিচের অংশে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। ঘুমন্ত আবাসিকদের মধ্যে মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। হোটেলের ভিতর থেকে একাধিক আবাসিককে উদ্ধার করে রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছিল, বেশ কয়েকজন গুরুতর দগ্ধ এবং ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়েছেন।

পরবর্তী সময়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে আট হয়। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ছয় জন মেঘালয়ের এবং দু’জন আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা। তবে অন্য সরকারি সূত্রের রিপোর্টে মৃতদের ঠিকানা নিয়ে সামান্য অমিল রয়েছে; তাই পরিচয় ও ঠিকানা সংক্রান্ত চূড়ান্ত তথ্য প্রশাসনের তরফে নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হবে।

ঘটনার পরেই হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। প্রাথমিক ভাবে বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে শর্ট সার্কিটই চূড়ান্ত কারণ, এমনটা এখনও নিশ্চিত নয়। আগুন কী ভাবে এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল এবং হোটেলে নির্ধারিত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার তদন্তে হোটেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ হোটেল মালিককে গ্রেফতার করেছে এবং অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম যথাযথ ভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের আওতায় রয়েছে। হোটেলের বৈদ্যুতিক সংযোগ, জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা পরিকাঠামোও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বিধায়ক ধ্রুব সাহা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর তারাপীঠের হোটেলগুলির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, বহু হোটেল, লজ ও গেস্ট হাউস থাকলেও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ‘বিদেশিনী’ হোটেলে জরুরি বহির্গমন পথ এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

এই পরিস্থিতিতে তারাপীঠের সব হোটেল, লজ, গেস্ট হাউস ও হোমস্টে-র নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে বীরভূম জেলা প্রশাসন। বিশেষ করে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে আবাসিকদের বেরিয়ে আসার পথ ঠিক রয়েছে কি না, সেগুলি পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মৃত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকবে রাজ্য সরকার। মেঘালয় সরকার এবং আলিপুরদুয়ারের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখেও কাজ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উপযুক্ত আর্থিক সহায়তার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

তারাপীঠের মতো গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্রে সারা বছরই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তদের সমাগম হয়। ফলে হোটেল ও অতিথিশালাগুলির অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে এই দুর্ঘটনা নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, নিরাপত্তার গাফিলতি এবং কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না—তদন্তে তা স্পষ্ট হওয়ার পরই ঠিক হবে পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন