ভারতের তৈরি ৪৬২ রানের পাহাড়ের সামনে শুরু থেকেই চাপে ছিল শ্রীলঙ্কা। সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন ভারতের স্পিনাররা। গলের প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনে শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস শেষ হল ২৮৪ রানে, ফলে ১৭৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পেল ভারত। মানব সুথারের চার উইকেট এবং রবীন্দ্র জাদেজার তিন শিকারে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়লেও সোনাল দিনুশা ও নিরোশন ডিকওয়েলার লড়াই ভারতকে বড় লিড থেকে কিছুটা বঞ্চিত করে।
তৃতীয় দিনের সকালে ভারতের শেষ উইকেটটি দ্রুত তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা। ১১৬.৪ ওভারে ৪৬২ রানে শেষ হয় ভারতের প্রথম ইনিংস। এরপর ব্যাট করতে নেমেই বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা। নতুন বল হাতে শুরুতেই আঘাত হানেন মহম্মদ সিরাজ।
এরপর ভারতের স্পিনাররা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন। মানব সুথার একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। তাঁর সঙ্গে জুটি বাঁধেন রবীন্দ্র জাদেজা এবং কুলদীপ যাদব। গলের পিচে বল ঘুরতে শুরু করতেই শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের সমস্যা আরও বাড়তে থাকে।
একসময় মাত্র ৯০ রানের মধ্যেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে বসে শ্রীলঙ্কা। সেই পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছিল, ভারতের লিড আরও বিশাল হতে চলেছে। এমনকি শ্রীলঙ্কাকে ফলো-অন করানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ঠিক তখনই ম্যাচের ছবি বদলে দেন সোনাল দিনুশা এবং নিরোশন ডিকওয়েলা।
চাপের মধ্যে দু’জনে দারুণ ধৈর্যের সঙ্গে ব্যাট করেন। ভারতীয় বোলারদের দীর্ঘ সময় আটকে রেখে ১৪৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তাঁরা। লাঞ্চের পরবর্তী সেশনেও কোনও উইকেট তুলতে পারেনি ভারত। ফলে বড় লিড নেওয়ার ভারতের পরিকল্পনায় কিছুটা ধাক্কা লাগে।
অবশেষে এই জুটি ভাঙেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা। ৮০ রান করে ডিকওয়েলা ফিরে যেতেই ফের শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ে ধস নামে। এরপর লঙ্কান লোয়ার অর্ডারকে আর বেশি সময় ক্রিজে দাঁড়াতে দেননি জাদেজা ও সুথার। দু’জনের স্পিনের সামনে একে একে সাজঘরে ফিরতে থাকেন শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা।
তবে অন্য প্রান্তে নিজের লড়াই চালিয়ে যান সোনাল দিনুশা। একসময় দল যখন বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে, তখন তাঁর ব্যাটেই আসে শতরান। শেষ পর্যন্ত ১০০ রান করে জাদেজার বলে আউট হন তিনি। তাঁর শতরান না হলে শ্রীলঙ্কার স্কোর আরও কম হতে পারত।
ভারতের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল মানব সুথার। ২১.৪ ওভারে ৭৬ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার। রবীন্দ্র জাদেজা ২১ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে তিনটি উইকেট তুলে নেন। এছাড়া মহম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা এবং কুলদীপ যাদব একটি করে উইকেট পান।
শেষ পর্যন্ত ৭৯.৪ ওভারে ২৮৪ রানে থামে শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস। ভারতের প্রথম ইনিংসের ৪৬২ রানের জবাবে ১৭৮ রানে পিছিয়ে থাকে স্বাগতিক দল। অর্থাৎ, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখনও স্পষ্ট ভাবেই ভারতের হাতে।
তবে তৃতীয় দিনের শেষ মুহূর্তে ফের বাধা হয়ে দাঁড়ায় বৃষ্টি। শ্রীলঙ্কার ইনিংস শেষ হওয়ার পরই বৃষ্টি নামে গলে। ফলে আম্পায়াররা দিনের খেলা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন। ভারতের সামনে এখন বড় লিড নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে চাপে রাখার সুযোগ, আর শ্রীলঙ্কার লক্ষ্য হবে দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করা।



