অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana)-র টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সোমবার, ১৭ অগস্ট থেকে। রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, যোগ্য মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ₹৩,০০০ করে মাসিক আর্থিক সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। তবে প্রথম দিনেই সকলের অ্যাকাউন্টে টাকা না পৌঁছনোয় তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার জানিয়েছেন, টাকা ধাপে ধাপে পাঠানো হবে এবং ২০ অগস্ট পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলবে।
নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। যাচাইয়ের পর প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলাকে সুবিধার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। তাই ১৭ অগস্ট সকাল বা দুপুরের মধ্যেই অ্যাকাউন্টে টাকা না ঢুকলে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলেই বার্তা দিয়েছেন তিনি।
সরকারের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ Direct Benefit Transfer বা DBT-এর মাধ্যমে আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার কথা। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি পশ্চিমবঙ্গের মহিলা বাসিন্দাদের জন্য মাসে ₹৩,০০০ আর্থিক সহায়তার কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, যাঁরা প্রথম দিনেই টাকা পাননি, তাঁদের ক্ষেত্রে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ হয়নি—এমন সম্ভাবনাই বেশি। মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৭ থেকে ২০ অগস্টের মধ্যে ধাপে ধাপে টাকা অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে। ফলে নির্দিষ্ট দিনে টাকা না এলেই আবেদন বাতিল হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রে আবেদন যাচাইয়ের জন্য একাধিক স্তরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন আবেদনগুলি সরকারি আধিকারিকদের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। গ্রামীণ এলাকায় BDO এবং শহরাঞ্চলে SDO-রা যোগ্য আবেদনকারীদের তালিকা সুপারিশ করবেন। এরপর জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তা অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। কলকাতা পুরসভা এলাকার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট KMC আধিকারিকরা এই কাজ করবেন।
তবে আবেদন করলেই যে প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে টাকা আসবে, এমন নয়। যাচাইয়ের পর যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ করা আবেদনকারীদেরই সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে বেশ কিছু আবেদন বাদ পড়েছে বলে সরকারি মহলে জানানো হয়েছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযোগের সমস্যা, তথ্যের অসঙ্গতি কিংবা সরকারি চাকরি ও আয়কর সংক্রান্ত যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করার মতো কারণ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এখানে একটি বিষয় বিশেষ ভাবে মনে রাখা দরকার। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে অন্নপূর্ণা যোজনার মূল যোগ্যতার ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়স, সরকারি স্থায়ী চাকরি বা নিয়মিত সরকারি পেনশন না পাওয়া এবং আয়করদাতা না হওয়ার শর্ত স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন প্রতিবেদনে পারিবারিক আয়, মাসিক উপার্জন বা বাড়ির ঘরের সংখ্যা নিয়ে যে অতিরিক্ত শর্তের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলির সবকটির সমর্থন বর্তমান সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই কোনও আবেদনকারীকে শুধুমাত্র ওই দাবির ভিত্তিতে নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো।
অন্নপূর্ণা যোজনার সরকারি নোটিফিকেশন অনুযায়ী, প্রকল্পের সুবিধা DBT-র মাধ্যমে আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পুরনো উপভোক্তাদের একটি বড় অংশকে নতুন প্রকল্পে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তবে SIR-2026-এ মৃত, স্থানান্তরিত বা নির্দিষ্ট কারণে বাদ পড়া নামগুলির ক্ষেত্রে যাচাই করে তালিকা সংশোধনের কথা বলা হয়েছে।
অন্নপূর্ণা যোজনার সরকারি পোর্টালও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনেই পরিচালিত হচ্ছে এবং এর তথ্য ও প্রক্রিয়া Women & Child Development and Social Welfare Department-এর অধীনে রয়েছে।
ফলে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল টাকা না পাওয়া নিয়ে অযথা বিভ্রান্ত না হওয়া। ১৭ অগস্ট থেকে ২০ অগস্টের মধ্যে ধাপে ধাপে টাকা পাঠানোর কথা জানানো হয়েছে। আর কারও আবেদন যাচাইয়ে সমস্যা থাকলে বা নাম তালিকায় না থাকলে পরবর্তী প্রশাসনিক নির্দেশ ও সংশোধনের সুযোগের দিকে নজর রাখতে হবে। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা কাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছল এবং কার আবেদন কেন আটকে গেল, সেই ছবিটা ২০ অগস্টের পর আরও পরিষ্কার হবে।



