পটনা: ভোটকুশলী থেকে এবার সরাসরি বিধানসভায়। জন সুরাজ পার্টির (Jan Suraaj Party) প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor) সোমবার বিহার বিধানসভায় বাঁকিপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন। সদ্য অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে বিজেপির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি বাঁকিপুরে ১৯,৩২৪ ভোটে জয় ছিনিয়ে নিয়ে প্রথমবার নির্বাচনী রাজনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি।
বাঁকিপুরের এই জয় প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জন সুরাজ কোনও আসন জিততে পারেনি। তার পরেই উপনির্বাচনে নিজে প্রার্থী হয়ে বিজেপির দখলে থাকা এই শহুরে আসন থেকে জয় তুলে নিলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা।
বাঁকিপুরে বিজেপির দাপট অবশ্য নতুন নয়। ১৯৯৫ সাল থেকে পরপর নির্বাচনে এই আসন বিজেপির দখলে ছিল। ২০০৫ সালের আগে আসনটির নাম ছিল পটনা ওয়েস্ট। পরবর্তী সময়ে বিজেপির প্রবীণ নেতা নবীন কিশোর প্রসাদ সিনহা এবং তাঁর ছেলে নীতিন নবীন (Nitin Nabin) এই আসন থেকে দলের আধিপত্য ধরে রাখেন।
নীতিন নবীন পরপর পাঁচবার বাঁকিপুর থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে তিনি বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচিত হন এবং রাজ্যসভায় যাওয়ার পর বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন। সেই কারণেই বাঁকিপুরে উপনির্বাচন হয়। বিজেপি এই আসন ধরে রাখতে নীরজ কুমার সিনহাকে প্রার্থী করেছিল।
কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তিন দশকের সেই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গিয়েছে। প্রশান্ত কিশোর ৬৪,১৫১ ভোট পেয়ে বিজেপির নীরজ কুমারকে ১৯,৩২৪ ভোটে পরাজিত করেন। জন সুরাজের জন্যও এটি ছিল প্রথম নির্বাচনী জয়।
শপথ নেওয়ার পর প্রশান্ত কিশোর বলেন, বিধানসভায় প্রবেশ তাঁর কাছে যেমন গর্বের, তেমনই বড় দায়িত্ব। সমাজ ও রাজ্যের উন্নয়নে দীর্ঘদিন কাজ করা বিধায়কদের পথ অনুসরণ করে কাজ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
প্রশান্ত কিশোরের রাজনীতিতে সরাসরি প্রবেশের পর থেকেই তাঁর দলকে ঘিরে কৌতূহল ছিল। দীর্ঘ সময় নির্বাচনী কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করার পর জন সুরাজ গড়ে বিহারের রাজনীতিতে নতুন রাজনৈতিক বিকল্প তৈরির দাবি করেছিলেন তিনি। কিন্তু প্রথম নির্বাচনে সাফল্য না আসায় সেই দাবি নিয়ে প্রশ্নও উঠেছিল।
বাঁকিপুরের উপনির্বাচনের ফল সেই ছবিতে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। পটনার গুরুত্বপূর্ণ শহুরে আসনে বিজেপিকে হারিয়ে প্রশান্ত কিশোর এখন নিজেই বিধায়ক। ফলে এই জয় শুধু একটি আসনের ফল নয়, বিহারের রাজনীতিতে জন সুরাজের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
তবে একটি উপনির্বাচনের ফল দিয়ে বড় রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যায় না। প্রশান্ত কিশোরের সামনে এখন আসল পরীক্ষা বিধানসভার ভিতরে তাঁর কাজ এবং জন সুরাজকে কতটা সাংগঠনিক শক্তিতে পরিণত করতে পারেন, তা প্রমাণ করা। বাঁকিপুরের জয় দরজা খুলেছে, এবার সেই দরজা দিয়ে কতদূর এগোতে পারেন তিনি—সেদিকেই নজর বিহারের রাজনীতির।



