সাডেন ডেথে জামশেদপুরকে হারিয়ে ডুরান্ড সেমিতে মোহনবাগান

ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে ১-১ ড্রয়ের পর সাডেন ডেথে ৯-৮ জয় মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের। গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে নায়ক বিশাল কাইথ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভুলে ম্যাচ কঠিন হয়ে গিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেই বিশাল কাইথের হাতেই শাপমোচন। ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জামশেদপুর এফসি-কে হারাতে রীতিমতো স্নায়ুর পরীক্ষা দিতে হল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ ব্যবধানে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারও গড়াল সাডেন ডেথে। শেষ পর্যন্ত ৯-৮ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল সবুজ-মেরুন

ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য স্বস্তি এনে দিয়েছিলেন সাহাল আবদুল সামাদ। দ্বিতীয় মিনিটেই জামশেদপুরের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন তিনি। ড্রাজিচের প্রেসিংয়ের চাপে বল হারান জামশেদপুরের ফুটবলাররা। সেখান থেকেই বল পেয়ে সাহালকে পাস বাড়ান ড্রাজিচ, আর সুযোগ পেয়ে কোনও ভুল করেননি ভারতীয় মিডফিল্ডার।

ডুরান্ড কাপে এ নিয়ে সাহালের গোলসংখ্যা বেড়ে হল পাঁচ। দ্রুত গোল পেয়ে যাওয়ায় মোহনবাগান সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল, এবার হয়তো ব্যবধান আরও বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে ম্যাচ যত এগিয়েছে, ততই আক্রমণভাগের সমস্যাগুলি চোখে পড়েছে।

জেমি ম্যাকলারেন প্রথম একাদশে ছিলেন না। মিগুয়েলও স্কোয়াডে ছিলেন না। ফলে ড্রাজিচের উপরই আক্রমণে বাড়তি দায়িত্ব ছিল। কিন্তু একের পর এক সুযোগ তৈরি হলেও সেগুলিকে কাজে লাগাতে পারেনি মোহনবাগান। বিশেষ করে লিস্টন কোলাসোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত ধার দেখা যায়নি।

উল্টে পাল্টা আক্রমণে জামশেদপুরও বারবার বিপদ তৈরি করেছে। আমন সি কে-র একটি প্রচেষ্টা কার্যত সমতা এনে দিয়েই ফেলেছিল। কিন্তু সেই যাত্রায় মোহনবাগানকে রক্ষা করেন বিশাল কাইথ। গোলের সামনে গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন তিনি।

তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই সেই বিশালই ভুল করে বসেন। রাশিথোইয়ের শট তাঁর হাত থেকে ফসকে যাওয়ার পর সুযোগ কাজে লাগিয়ে জামশেদপুরকে সমতায় ফেরান দেবেন্দ্র মুরগাঁওকর। ফলে বিরতির সময় স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১-১।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দু’দলই। মোহনবাগান আক্রমণে চাপ বাড়ালেও কাঙ্ক্ষিত ফিনিশিংয়ের অভাব থেকেই যায়। ড্রাজিচের সামনে ফাঁকা গোলের সুযোগ এসেছিল, কিন্তু তাঁর হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। একটি পেনাল্টির দাবিও ওঠে মোহনবাগানের তরফে, তবে সেই আবেদন মঞ্জুর হয়নি।

নির্ধারিত সময়ের শেষ বাঁশি বাজার পরও ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়নি। টাইব্রেকারে গড়ায় লড়াই। সেখানেও কোনও দল কাউকে ছেড়ে কথা বলেনি। একের পর এক পেনাল্টি জালে জড়াতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় সাডেন ডেথে।

আর সেখানেই নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন বিশাল কাইথ। গুরুত্বপূর্ণ শট রুখে দিয়ে মোহনবাগানকে ম্যাচে জিতিয়ে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৯-৮ ব্যবধানে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা টপকে যায় সবুজ-মেরুন।

তবে সেমিফাইনালে উঠলেও মোহনবাগানের সামনে চিন্তার জায়গা কম নয়। গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর নকআউটে জামশেদপুরের বিরুদ্ধে গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা ফের প্রশ্ন তুলল আক্রমণভাগের কার্যকারিতা নিয়ে। এর আগের ম্যাচে সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্সকে ৬-০ গোলে হারানোর ম্যাচে সাহাল হ্যাটট্রিক করেছিলেন এবং মোহনবাগান অপরাজিত থেকেই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল।

ফলে ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে স্বস্তি ফিরলেও কোচ পানাগিওটিস দিলমপেরিসের সামনে এখন বড় পরীক্ষা—সুযোগ তৈরি করাই নয়, সেই সুযোগ থেকে গোলও করতে হবে। কারণ নকআউটের মঞ্চে জামশেদপুরের বিরুদ্ধে যে ভাবে ম্যাচ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঝুলে রইল, সেমিফাইনালে একই ছবি দেখা গেলে বিপদ আরও বাড়তে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন