ডিভোর্স ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে? সরকারি কর্মীর বেতন থেকে ২০% কেটে প্রথম স্ত্রীকে দেবে অসম সরকার

প্রথম স্ত্রীকে আইনত ডিভোর্স না দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করলে অসমে সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা। আবেদনের ভিত্তিতে বেতনের ২০ শতাংশ প্রথম স্ত্রীকে দেওয়ার পরিকল্পনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

প্রথম স্ত্রীকে আইনত বিবাহবিচ্ছেদ না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করলে সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে এবার আরও কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল অসম সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) সোমবার জানিয়েছেন, এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে এবং প্রথম স্ত্রী সরকারের কাছে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বেতনের ২০ শতাংশ কেটে সরাসরি প্রথম স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ওই কর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপও করা হতে পারে।

অসমের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রীকে আইনত ডিভোর্স না দিয়েই তাঁকে পরিত্যাগ করে অন্যত্র বিয়ে করা সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে সরকার এবার প্রশাসনিক স্তরে কড়া অবস্থান নিতে চলেছে। মূল লক্ষ্য, আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রথম স্ত্রী যাতে আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা।

হিমন্ত জানান, প্রথম স্ত্রী সরকারের কাছে আবেদন করলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীর বেতনের ২০ শতাংশ কেটে তা প্রথম স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকলেও এই আর্থিক সহায়তার প্রক্রিয়া চালু রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।

শুধু বেতন কাটাই নয়, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সরকারি চাকরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চাকরির নিয়ম এবং প্রচলিত আইন মানা বাধ্যতামূলক।

এই ঘোষণার পিছনে মূলত বহুবিবাহের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান আরও কঠোর করার বার্তাই দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল। অসমে ইতিমধ্যেই বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করার আইনি ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। নতুন এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ সেই অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হচ্ছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বক্তব্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। এই ব্যবস্থা আপাতত সরকারি কর্মীদের কেন্দ্র করে ঘোষণা করা হলেও ভবিষ্যতে বেসরকারি ক্ষেত্রের কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। অর্থাৎ বিষয়টি শুধু সরকারি চাকরির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর কর্মক্ষেত্রেও প্রয়োগের চিন্তাভাবনা করছে অসম সরকার।

তবে ২০ শতাংশ বেতন কাটার এই ঘোষণা নিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট থাকা জরুরি—এটি মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত সরকারি নীতির কথা, এবং এর বাস্তব প্রয়োগের জন্য নির্দিষ্ট প্রশাসনিক নিয়ম, প্রক্রিয়া ও আইনি কাঠামো কী হবে, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অভিযোগ উঠলেই স্বয়ংক্রিয় ভাবে বেতন কাটা হবে, নাকি তদন্ত ও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা সরকারি নির্দেশিকায় পরিষ্কার হবে।

হিমন্তের এই ঘোষণায় মূল বার্তা একটাই—প্রথম স্ত্রীকে আইনত বিবাহবিচ্ছেদ না দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগকে আর ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখবে না অসম সরকার। সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং প্রথম স্ত্রীর আর্থিক সুরক্ষাকে একসঙ্গে সামনে রেখে ২০ শতাংশ বেতন কাটার প্রস্তাব এবার নতুন করে আলোচনায়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন