সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারত-বিরোধী এবং উসকানিমূলক পোস্ট করার অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ (Bengal STF)। ধৃতের নাম জিন্নাতুল কিবরিয়া ওরফে টুটুল বেগ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ভাঙড়ের পানাপুকুর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থেকে বেনামে একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চালাতেন তিনি এবং সেখান থেকেই ভারত-বিরোধী প্রচার চালানো হত।
এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, পানাপুকুর এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই একটি ভাড়া বাড়িতে একাই থাকতেন টুটুল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাঁকে খুব একটা বাইরে দেখা যেত না। দিনের অধিকাংশ সময়ই বাড়ির ভিতরে থাকতেন তিনি। তবে ঠিক কী ধরনের কাজ করতেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের কাছে স্পষ্ট কোনও তথ্য ছিল না।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পরিচয় গোপন রেখে দুটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। সেই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে নিয়মিত ভারত-বিরোধী এবং উসকানিমূলক বক্তব্য বা পোস্ট ছড়ানো হচ্ছিল বলে দাবি এসটিএফের।
ওই সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলির সূত্র ধরেই তদন্ত শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। পোস্টগুলির বিষয়বস্তু, অ্যাকাউন্ট পরিচালনার পদ্ধতি এবং ধৃত যুবকের সঙ্গে ওই অ্যাকাউন্টগুলির যোগাযোগ কী ভাবে তৈরি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ভাঙড়ের পানাপুকুর এলাকায় টুটুলের গতিবিধি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ছিল। প্রতিবেশীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি একাই থাকতেন এবং খুব প্রয়োজন না হলে বাড়ির বাইরে বেরোতেন না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঠিক কী করছিলেন, তা নিয়ে আশপাশের বাসিন্দারাও বিশেষ কিছু জানতেন না।
গ্রেপ্তারের পর এখন ধৃত যুবকের মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখার দিকে নজর তদন্তকারীদের। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলিতে কী ধরনের পোস্ট করা হয়েছিল, সেগুলি কতদিন ধরে সক্রিয় ছিল এবং ওই পোস্টের মাধ্যমে অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না, সেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে।
তবে তদন্তের এই পর্যায়ে ধৃতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি এখনও তদন্তসাপেক্ষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হলেও সেই পোস্টগুলির উদ্দেশ্য, নেপথ্যে অন্য কোনও যোগাযোগ ছিল কি না এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়, তা তদন্ত শেষ হলেই স্পষ্ট হবে।
ভাঙড় থেকে এই গ্রেপ্তারির পর ফের একবার সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচার নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরদারির বিষয়টি সামনে এসেছে। এখন ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা তাঁর ডিজিটাল যোগাযোগ এবং অনলাইন কার্যকলাপ সম্পর্কে আরও কী তথ্য পান, সেদিকেই নজর।



