ভিক্টোরিয়া হাউস-এর সামনে আইএসএফের সভাকে কেন্দ্র করে টালবাহানা কম হয়নি। প্রথমে পুলিশের তরফে বাধা দেওয়া হলে আদালতের দ্বারস্থ হয় আইএসএফ। কিন্তু সেখানেও ছিল গেরো! প্রথমে আদালতের তরফে নওশাদের দলকে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। কেন? আদালতের যুক্তি ছিল, গত বছর এরকমই রানী রাসমণি রোডে আইএসএফকে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়, কিন্তু সভার দিন পরিস্থিতি খুবই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের সঙ্গে কার্যত হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন আইএসএফ কর্মী সমর্থকরা।
সরকারি জমি দখল করে পার্টি অফিস তৈরি প্রসঙ্গে ভাঙড়ের বিধায়ক তথা তথা আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকি বলেছেন, "সিন্ডিকেট রাজ চালাচ্ছেন আরাবুল। এর সঙ্গে যুক্ত আছে বামনঘাটার প্রধান ও উপপ্রধান। এই অনৈতিক কাজ বন্ধ না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হব আমরা।"
ভাঙড়ে তৃণমূল-আইএসএফ দ্বন্দ্ব চরমে। এতদিন তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা ও নওশাদ সিদ্দিকি একে অপরকে ভাই-ভাই বলে সম্বোধন করলেও এবার কিন্তু তাদের সম্পর্কে তিক্ততা বাড়ছে। সম্প্রতি নওশাদকে ‘জঙ্গি সংগঠনের নায়ক’ বলে কটাক্ষ করলেন শওকত মোল্লা। এবার কিন্তু পাল্টা আইএসএফ বিধায়কও দু'চার কথা শুনিয়ে দিলেন।
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ ছিল ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির বিরুদ্ধে। সোমবার সেই মামলায় নওশাদকে আগাম জামিন মঞ্জুর করল কলকাতা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে, ভাঙড়ের বিধায়ককে তদন্তে সব রকম সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।
নতুন বিরোধী জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে রাহুল গান্ধীকে খুব পছন্দ করেন। তাঁর কথায়, রাহুল যাদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে তাঁর অনেক অভিযোগ রয়েছে। এখানে নাম না করে তিনি তৃণমূলের কথাই বলতে চেয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
রবিবার বারাসাত দত্তপুকুরের মোচপোল এলাকায় বাজি কারখানায় ভয়ানক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত খবর, বিস্ফোরণে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসন এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের মদতেই অবৈধভাবে বাজি নির্মাণ হত বলে বারবারই অভিযোগ করছেন মোচপোলবাসীরা। এবার রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা রথীন ঘোষ কিন্তু সাফাই দিয়ে বললেন, অবৈধভাবে যারা বাজি তৈরি করছিল তাঁরা সবাই আইএসএফের কর্মী বা সমর্থক!
শুক্রবার নওশাদকে একইভাবে আটকেছিল পুলিশ। এরপর চার ঘন্টা গাড়িতে বসে ছিলেন তিনি কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। এবার রবিবারেও নওশাদকে ভাঙড়ে ঢুকতে বাধা দিল পুলিশ। গার্ডরেল দিয়ে তাঁর গাড়ি আটকানো হল। অথচ শনিবার তৃণমূলের দুই নেতা আরাবুল ইসলাম ও শওকাত মোল্লাকে ভাঙড়ে প্রবশ করতে দেয় পুলিশ। সেই প্রসঙ্গে নওশাদ বলেন, ‘দ্বিচারিতা করছে পুলিশ। আমি হাতিশালায় রয়েছি। এখানে ১৪৪ ধারা লাঘু নেই। হাজার হাজার মানুষ যাচ্ছে। তৃণমূলের নেতারা অবাধে বিচরণ করছে। আমি এখানের জনপ্রতিনিধি। মানুষের পরিষেবা দিতে আমাকে যেতেই হবে। ১৪৪ ধারার মানে চারজনের বেশি জমায়েত করা যাবে না। আমি তো একজনকে সঙ্গে নিয়ে এসেছি। সুকৌশলে আমাকে আটকানো হচ্ছে’। আজও দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে বচসায় লিপ্ত হতে দেখা গেল ভাঙড়ের বিধায়ককে।