আগামী ২১ জানুয়ারি ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা করতে চেয়েছিল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)। কিন্তু পুলিশের তরফে অনুমতি মেলেনি। সে কারণে সভা করার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি (Nawsad Siddique)। অবশেষে ভিক্টোরিয়া হাউস এর সামনে শর্তসাপেক্ষে সভা করার অনুমতি পেল আইএসএফ (ISF)।


ভিক্টোরিয়া হাউস-এর সামনে আইএসএফের (ISF) সভাকে কেন্দ্র করে টালবাহানা কম হয়নি। প্রথমে পুলিশের তরফে বাধা দেওয়া হলে আদালতের দ্বারস্থ হয় আইএসএফ। কিন্তু সেখানেও ছিল গেরো! প্রথমে আদালতের তরফে নওশাদের (Nawsad Siddique) দলকে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। কেন? আদালতের যুক্তি ছিল, গত বছর এরকমই রানী রাসমণি রোডে আইএসএফকে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়, কিন্তু সভার দিন পরিস্থিতি খুবই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের সঙ্গে কার্যত হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন আইএসএফ (ISF) কর্মী সমর্থকরা।

এই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই আইএসএফকে (ISF) হলফনামা জমা দেবার নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। অন্যদিকে, সভা করার অনুমতি না দেওয়ার প্রসঙ্গে রাজ্যের যুক্তি ছিল, ২১ জানুয়ারির পর দিন অর্থাৎ ২২ জানুয়ারি ওই একই রাস্তা দিয়ে একটি মিছিল বেরোনোর কথা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধনের দিন পাল্টা রাজ্যে ‘সংহতি’ মিছিলের ডাক দিয়েছে তৃণমূল। পূর্বনির্ধারিত এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে আইএসএফের সভা বাতিলের জন্য আদালতে আবেদন করে রাজ্য।



যাবতীয় টালবাহানার অবসান, ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই ISF-কে সভা করার অনুমতি আদালতের
কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের বেঞ্চে বৃহস্পতিবার আইএসএফের (ISF) এই সভা সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। এদিন বিচারপতি আইএসএফকে সভা করার অনুমতি দিলেও মোট ন’টি শর্ত বেঁধে দিয়েছেন। এই শর্ত গুলি হল, এক, সভায় এক হাজারের বেশি মানুষ জমায়েত করা যাবে না। দুই, সভার মঞ্চ দৈর্ঘ্যে বা প্রস্থে ২০ ফুটের বেশি করা যাবে না। তিন, দুপুর আড়াইটে থেকে বিকেল সাড়ে ৪টের মধ্যে সভা শেষ করতে হবে। চার, কোনও রকম আপত্তিকর বা উস্কানিমূলক মন্তব্য করা যাবে না।

পাঁচ, পর্যাপ্ত সংখ্যায় স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ করতে হবে আইএসএফ-কে। ছয়, যান চলাচলে যেন কোনও রকম অসুবিধা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সাত, ১৫টির বেশি গাড়ি নিয়ে আসা যাবে না। আট, সভার ভিডিয়োগ্রাফি করতে হবে এবং রাজ্যকে পর্যাপ্ত পুলিশের বন্দোবস্ত করতে হবে। নয়, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মঞ্চ তৈরির কাজ করা যাবে না।







