নজরবন্দি ব্যুরো: রবিবার বারাসাত দত্তপুকুরের মোচপোল এলাকায় বাজি কারখানায় ভয়ানক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত খবর, বিস্ফোরণে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসন এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের মদতেই অবৈধভাবে বাজি নির্মাণ হত বলে বারবারই অভিযোগ করছেন মোচপোলবাসীরা। এবার রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা রথীন ঘোষ কিন্তু সাফাই দিয়ে বললেন, অবৈধভাবে যারা বাজি তৈরি করছিল তাঁরা সবাই আইএসএফের কর্মী বা সমর্থক!
আরও পড়ুন: দত্তপুকুরের বিস্ফোরণকাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, ঘটনাস্থলে তদন্তে CID


রবিবার সকালেই ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে মোচপোল এলাকা। বিসস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ৫ কিলোমিটার দূর থেকে আওয়াজ শোনা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, কেরামত আলি এই বাজি কারখানার মালিক। তাঁর ছেলে রবিউল আলি বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন। আবার, যার জমিতীই কারখানা গড়ে উঠেছিল সেই সামসুল আলিও মারা গিয়েছেন। মারা গিয়েছেন, মুর্শিদাবাদের এই বাজি শ্রমিক জাহিদ আলি ও তাঁর ছেলে।

বিস্ফোরণের ঘটনার পর এলাকায় গিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী রথীন ঘোষ। তিনি দাবি করেছিলেন, বিস্ফোরণের ঘটনার নেপথ্যে স্থানীয় এক আইএসএফ নেতা রয়েছেন। রথীন ঘোষের কথায়, “মুর্শিদাবাদের চিনার শেঠের সাথে এলাকায় ‘কালো’ বলে পরিচিত রমজান মিলিতভাবে এই বাজি কারখানা চালাত। রমজানের বাড়িতে ISF-এর পার্টি অফিস রয়েছে। ও সেই দলেরই নেতা। পঞ্চায়েত ভোটে এই এলাকায় ISF জিতেছে। সামসুলের বাড়িভাড়া করে রমজান এইসব করছিল। আগে নারায়ণপুরে বাজি তৈরি হত সেটা প্রশাসন বন্ধ করে দিয়েছে। এলাকার তিন জন মারা গিয়েছে, বাকী সকলেই মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। তৃণমূলকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে। আমরা জানলে নিশ্চয় ব্যবস্থা নিতাম।“

তৃণমূলকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে? অবৈধভাবে বাজি তৈরির সহযোগী আসলে ISF! বিস্ফোরক রথীন
পাল্টা আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, ‘‘স্থানীয়েরা প্রশাসনকে একাধিক বার বেআইনি বাজি তৈরির কথা জানিয়েছিল। আইএসএফ যদি বাজি কারখানা চালাত, তা হলে কি প্রশাসন চুপ করে থাকত? বেআইনি বাজি কারবারের পিছনে তৃণমূলের দুই নেতা রয়েছে। কেরামত আলি আর আজিবর আলি। ওরা ভানু বাগের (এগরাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত) মতো পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ওদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। যারা আমাদের নামে অভিযোগ করছে, তারাই এই সব বাজি কারখানা থেকে টাকা পেত।’’










