রাজ্যে বিরোধী পরিসরে একটি শুন্যতা তৈরি হয়েছে। কখনও কংগ্রেস তৃণমূলের সঙ্গে জোট করছে। কখনও সিপিএমের সাথে। সিপিএম কখনও বাংলায় তৃণমূলের বিরোধিতা করছে। আবার কখনও ইন্ডিয়া জোটে তারা একই মঞ্চে গিয়ে বসছে।
কংগ্রেস নেতা কৌস্তভ বাগচীর গ্রেফতারি ঘিরে তোল্পপাড় হয়েছে বঙ্গ রাজনীতি। এমনকি পুলিশের অতিসক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বারবার। এরই মধ্যে আইনজীবী তথা কংগ্রেস নেতা কৌস্তভ বাগচিকে নিয়ে বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এদিন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা নির্দেশ দিয়েছেন, কৌস্তভের ব্যারাকপুরের বাড়িতে সিআইএসএফের নিরাপত্তা বলয় দিতে হবে। যদিও বাহিনীর থাকার ব্যবস্থা কৌস্তভকেই করতে হবে।
পুলিশকে বেআইনি কাজ করতে কি উৎসাহ দিচ্ছেন পুলিশ কমিশনার? এই ধরনের আচরণ ঠিক নয়। সোমবার কৌস্তভ বাগচির গ্রেফতারিতে কলকাতা পুলিশ কমিশনারের রিপোর্টে অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা বলেন, পুলিশ কমিশনারের রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য নয়। রিপোর্টে ওই দিনের পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন করা হয়েছে। কিন্তু সে দিন ঘটনাটি কী ঘটেছিল সবার তা জানা উচিৎ।
১০ মার্চ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে। তার আগে সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলন মঞ্চে উপস্থিত হলেন কংগ্রেস নেতা কৌস্তভ বাগচি। সেখান থেকেই রাজ্য সরকারকে আরও একবার তুলোধোনা করলেন আইনজীবী। তাঁর কথায়, শাসক দলের নেতারা এত খেয়েছে চলতে অসুবিধা হচ্ছে।
দীর্ঘ সওয়াল জবাবের পর জামিন পেলেন কৌস্তভ। তাঁর বাবা জানালেন আই ফিল প্রাউড ফর কৌস্তভ। যেভাবে ওকে মিথেয় অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে তাতে জামিন নিশ্চিত ছিল। রাত ৩ টের সময় পুলিশ পাঠানো হয়েছে তা অনৈতিক। ১০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন ছিল, মাঝরাতে একজন আইনজীবীকে তুলে আনা হল। পুলিশকে কে এই অধিকার দিয়েছে। তিনি কী কোনও সন্ত্রাসমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত? তাঁর বাড়িতে কিছু সন্ত্রাসমূলক কাজের হদিশ মিলেছে? আগামী দিনে বিচারকের ওপরেও হামলা হতে পারে।
কংগ্রেস নেতা তথা আইনজীবী কৌস্তভ বাগচীকে গ্রেফতারের ঘটনায় ক্রমাগত বাড়ছে রাজ্য রাজনীতির পারদ। সেই ঘটনায় শাসক দলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা। পথে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে কংগ্রেস। এবার কৌস্তভের গ্রেফতারি নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, কৌস্তভকে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার ঠিক হল না।