অনিল আম্বানির গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঋণ ও আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্তে বড় পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate বা ED)। রিলায়েন্স গোষ্ঠীর একাধিক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির তালিকায় রয়েছে দুটি বিমান, বায়ুকল এবং বিভিন্ন জমি ও স্থাবর সম্পত্তি। এই পদক্ষেপের ফলে অনিল আম্বানির গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হল।
নতুন করে প্রায় ৫১০ কোটি টাকার সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate বা ED)। অনিল আম্বানির (Anil Ambani) গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একাধিক ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে চলা তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। সংযুক্ত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে দুটি চার্টার্ড বিমান, মহারাষ্ট্রের ছ’টি জমি, একটি অফিস, তামিলনাড়ুর দুটি বায়ুকল এবং ব্যাঙ্কে জমা অর্থ। ইডির হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন মামলায় এখনও পর্যন্ত গোষ্ঠীটির মোট ২৩,১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি সংযুক্ত বা বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
ইডির এই নতুন পদক্ষেপের আওতায় রয়েছে তিনটি সংস্থা—রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস লিমিটেড (Reliance Communications Limited), রিলায়েন্স হোম ফিনান্স লিমিটেড (Reliance Home Finance Limited) এবং রিলায়েন্স কমার্শিয়াল ফিনান্স লিমিটেড (Reliance Commercial Finance Limited)। সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, দুটি পৃথক ব্যাঙ্ক জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় মোট ৫১০.১৭ কোটি টাকার সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
রিলায়েন্স কমিউনিকেশনসের বিরুদ্ধে ২৪৭.১২ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত চলছে। এই মামলায় দুটি চার্টার্ড বিমান, মহারাষ্ট্রের ছ’টি জমি এবং একটি অফিসের সম্পত্তি সংযুক্ত করেছে ইডি। অন্যদিকে, রিলায়েন্স হোম ফিনান্স ও রিলায়েন্স কমার্শিয়াল ফিনান্সের বিরুদ্ধে ২৬৩.০৫ কোটি টাকার অভিযোগের তদন্তে তামিলনাড়ুর দুটি বায়ুকল, ব্যাঙ্কের আমানত, ফিক্সড ডিপোজিট, বিনিয়োগ এবং পাওনা অর্থ সংযুক্ত করা হয়েছে।
তদন্ত শুরু হয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (Central Bureau of Investigation বা CBI)-এর দায়ের করা একাধিক এফআইআর এবং দিল্লি ও মুম্বই পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখার (Economic Offences Wing বা EOW) নথির ভিত্তিতে। ইডির তদন্তের আওতায় রয়েছে রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস, রিলায়েন্স হোম ফিনান্স, রিলায়েন্স কমার্শিয়াল ফিনান্স ছাড়াও রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার, রিলায়েন্স পাওয়ার এবং রিলায়েন্স ক্যাপিটাল।
তদন্তে ইডির অভিযোগ, ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া জনসাধারণের অর্থ সরিয়ে অন্যত্র ব্যবহার করা হয়েছে। সংস্থাটির আরও দাবি, ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাঙ্করাপ্সি কোড (Insolvency and Bankruptcy Code বা IBC)-এর অপব্যবহার করে কিছু কর্পোরেট সম্পত্তি ব্যক্তিগত স্বার্থে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা হয়েছে এবং ভারতের বাইরে করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন জায়গায় অর্থ সরানো হয়েছে। এই অভিযোগগুলি তদন্তকারী সংস্থার দাবি; মামলাগুলির চূড়ান্ত বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি।
সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত করার অর্থ সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির উপর লেনদেন বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। তদন্তের এই পর্যায়ের পদক্ষেপকে সম্পত্তির মালিকানা বা অভিযুক্তদের অপরাধ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য বলা যায় না। তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপেই অভিযোগগুলির বিচারিক নিষ্পত্তি হবে।



