পাল্টা বৈশাখী বলেছেন, "অপ্রাসঙ্গিক কথার কী উত্তর দেব! ওনার কথার উত্তর দিতে আমাকে যেখানে নামতে হবে, আমি নামতে রাজি নই। উনি আমার সম্পর্কে যাই বলুন, আমি এটুকু বুঝতে পারছি শোভন রাজনীতিতে এলে উনি ওনার প্রাসঙ্গিকতা হারাতে পারেন ভেবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে এসব বলছেন।"
রত্না বলেছেন, "তৃণমূল এখন অনেক বড় পরিবার। উনি (পড়ুন শোভন) যদি আসতে চান আসতে পারেন। উনি একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সৎ মা বানিয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সোনার গোপাল বানিয়েছেন। এখন যদি মনে হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সৎ মা থেকে মা হয়ে গিয়েছেন, অভিষেক ম্যাচিওর রাজনীতিবিদ হয়ে গিয়েছেন, তাহলে ফিরে আসবেন!"
শ্রাবণ মাস মহাদেবের মাস। এই মাসে নাকি শিব ঠাকুরের কাছে যা চাওয়া হয়, তাই পাওয়া যায়। তাই ‘সঙ্গী’ শোভন চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে একসঙ্গে রুদ্রাভিষেক করলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণত গ্রহের দোষ কাটাতে এই পুজো করা হয়। আর এই রুদ্রাভিষেকের ছবি কিন্তু নেটিজেনদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে ভোলেননি বৈশাখী।
শুক্রবার আলিপুর আদালতে ছিল শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ মামলার শুনানি। এদিন শোভনের হয়ে সাক্ষ্য জমা দিতে উপস্থিত ছিলেন বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে উপস্থিত ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী এবং বেহালা পূর্বের বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়। এত তাড়াতাড়ি শোভনকে ছাড়তে নারাজ রত্না। স্পষ্ট জানালেন তিনি।
তাঁদের এক একটি মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে স্ফুলিঙ্গের আকার নিয়েছে। তবে নিজেদের রংচঙে জীবনযাপন দিয়ে বারবার আকর্ষিত করেছেন যুগল। কখনও ম্যাচিং ড্রেস, কখনও রথে চড়ে শহর ঘুরে, আবার কখনও দোলনায় চড়ে প্রেমের মুহুর্ত সবটাই তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করেছে আম জনতা।
সক্রিয় রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছেন শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু একেবারেই অরাজনৈতিক নন। এমনটাই বারবার দাবি করে এসেছেন বঙ্গ রাজনীতির সবচেয়ে চর্চিত এই যুগল। বিজেপির তরফে ডিসেম্বরের ডেডলাইন, আবার প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কার্যকলাপ, সবটা সম্পর্কেই মুখ খুললেন তাঁরা। কখনও দাবি করলেন, পার্থ অন্যায়ের ফল ভোগ করছেন।
নামের সঙ্গেই জড়িয়ে রখেছেন একে অপরের নাম। নিজেদের সম্পর্কের দৃঢ়তার প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বাংলার চর্চিত যুগল শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার শোভন চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিনে আলতো ঠোঁটের ছোঁয়ায় বোঝাতে চাইলেন তাঁরা এক এবং অভিন্ন। সেইসঙ্গে ক্যাপশনে লিখলেন “হ্যাপি বার্থডে মাই লাইফলাইন”। আহ্লাদে আটখানা হয়ে শোভন বোঝালেন বয়সটা সংখ্যা মাত্র।