শোভন চট্টোপাধ্যায়, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রত্না চট্টোপাধ্যায়, এই ত্রিমুখী সম্পর্কের কথা কমবেশি সকলেরই জানা। এই মুহূর্তে স্ত্রী রত্নাকে ছেড়ে বান্ধবী বৈশাখীর সঙ্গে গোলপার্কের ফ্ল্যাটে থাকেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন। রত্নার সঙ্গে এখনও বিচ্ছেদ হয়নি। এবার বার শোভন-বৈশাখীর তৃণমূলে যোগদান নিয়ে রাজনৈতিক জোর জল্পনা চলছে। অন্যদিকে, রত্না তৃণমূলের বিধায়ক এবং কাউন্সিলর। শোভনের বেহালা পূর্ব আসন থেকেই একুশের বিধাসভায় জেতেন তিনি।
এই তিনজনের মধ্যেই আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক। একে অপরের বিরুদ্ধে নানান সময় কু-মন্তব্য করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এত জলঘোলা বোধহয় অন্য কোনও সম্পর্ক নিয়ে খুব বেশি হয়নি। ফলে, শোভন বা বৈশাখী তৃণমূলে ফিরে এলে রত্না মেনে নেবেন তো? কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজনীতি করবেন তিনজন? এই প্রশ্নটা থেকে যাচ্ছে।



একটি প্রথম সারির টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রত্না সাফ বলেছেন, “তৃণমূল এখন অনেক বড় পরিবার। উনি (পড়ুন শোভন) যদি আসতে চান আসতে পারেন। উনি একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সৎ মা বানিয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সোনার গোপাল বানিয়েছেন। এখন যদি মনে হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সৎ মা থেকে মা হয়ে গিয়েছেন, অভিষেক ম্যাচিওর রাজনীতিবিদ হয়ে গিয়েছেন, তাহলে ফিরে আসবেন!”
শোভন আসলে আসুক, বৈশাখী রাজনীতির র বোঝে না! যুগলের তৃণমূল-যোগ প্রসঙ্গে রত্না
আর বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়? এ প্রসঙ্গে একেবারে সপাট জবাব রত্নার। বললেন, “না না সেটা হবে না। একজন আসবে বলে আর এক জন পিছনে এসে বসবেন তা হবে না। বৈশাখী রাজনীতির র বোঝে না।” পাল্টা বৈশাখী বলেছেন, “অপ্রাসঙ্গিক কথার কী উত্তর দেব! ওনার কথার উত্তর দিতে আমাকে যেখানে নামতে হবে, আমি নামতে রাজি নই। উনি আমার সম্পর্কে যাই বলুন, আমি এটুকু বুঝতে পারছি শোভন রাজনীতিতে এলে উনি ওনার প্রাসঙ্গিকতা হারাতে পারেন ভেবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে এসব বলছেন।”



২০১৯ সালের অগস্ট মাসে দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে গিয়ে পদ্ম-পতাকা হাতে তুলে নেন বেহালা পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শোভন চট্টোপাধ্যায়। এরপরেই আবার তাৎপর্যপূর্ণভাবে ভাইফোঁটার দিন ছোটেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে। দিদির হাতে ফোঁটাও নেন। তারপর থেকেই শোভনের রাজনৈতিক জীবনে নিষ্ক্রিয়তা শুরু। একুশের নির্বাচনের আগে বিজেপি ছেড়েও দেন শোভন। যদিও এখন শোভন তৃণমূলে ফিরবেন কিনা তা সবটাই নির্ভর করছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর।








