দেশের বিভিন্ন অবিজেপি শাসিত রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি তদন্ত করছে। ইডি-সিবিআইকে ব্যবহার করে কেন্দ্র বিরোধীদের বিপাকে ফেলতে চাইছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এবার নাম না করেই ভাইপো অজিতকে খোঁচা দিলেন এনসিপি সভাপতি শরদ পাওয়ার।
গত ২ জুলাই অজিত পাওয়ার এবং এনসিপির বিধায়কদের একাংশ একনাথ শিণ্ডে সরকারে যোগদান করেন। এরপর এটাই তাঁদের প্রথম বৈঠক। কয়েকদিন আগেও 'ভাইপো' অজিত পাওয়ার 'কাকা' শরদ পাওয়ারের বাসভবনে গিয়েছিলেন।
মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক ক্ষেত্র এখন আলোচনার শীর্ষে। এনসিপি দল ছেড়ে শিন্ডে শিবিরের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন অজিত পাওয়ার। রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। এবার পেলেন অর্থ দফতরের দায়িত্ব। এই দফতর এতদিন সামলাতেন দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। সেইসঙ্গেই অজিত শিবিরে এল সাতটি গুরুত্বপূর্ণ দফতর।
দলের নীতিবিরুদ্ধ কার্যকলাপের কারণে প্রথমে ২ জন ও পরে ৩ জন নেতাকে এদিন বহিষ্কার করলেন শরদ পাওয়ার। বহিষ্কৃত এই নেতারা হলেন, এনসিপির দুই লোকসভা সাংসদ প্রফুল্ল প্যাটেল ও সুনীল তৎকারে, দলের আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদক শিবাজি রাও গারজে, দলের আকোলা সিটি জেলা সভাপতি বিজয় দেশমুখ এবং মুম্বই বিভাগের কার্যকরী সভাপতি নরেন্দ্র রানে। প্রফুল্ল প্যাটেল ও সুনীল তৎকারের বহিষ্কার প্রায় নিশ্চিত ছিল। বাকী তিন নেতা অজিত পাওয়ারের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবার অনুষ্ঠানে হাজির থাকার অপরাধে বহিষ্কৃত হলেন।
শিবসেনার পর এবার এনসিপি। মহারাষ্ট্রের আরও একটি শক্তিশালী সংগঠনে ভাঙন। রবিবাসরীয় দুপুরে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে অজিত পাওয়ার। বিগত বেশ কিছু সময় ধরে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। এনসিপি সভাপতি পদে পুনরায় শরদ পাওয়ারের প্রত্যাবর্তন গুঞ্জনের আগুনে ঘি ঢেলেছিল। অবশেষে জল্পনায় শিলমোহর।
তিনি আরও বলেন, "আমি কোনওভাবেই দলের নেতাদের রাজি করাতে পারতাম না। তাই অনেক ভেবেই তাঁদের না জানিয়েই পদত্যাগ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিই। আমি ভেবেছিলাম হয়তো তাঁদের রাজি করিয়ে ফেলব কিন্তু আমি পারিনি। তাঁদের আর্জির মান্যতা দিয়েই পুনরায় দায়িত্বে ফিরেছি।"
শরদ পাওয়ার এমন সময় তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যখন অজিত পাওয়ারের বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা প্রবল ছিল। যদিও মহারাষ্ট্রের বিরোধী দলনেতা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি এনসিপি-তে আছেন এবং এই দলেই থাকবেন।