নজরবন্দি ব্যুরো: গত জুলাই মাসে এনসিপি ছেড়ে মহারাষ্ট্রের বিজেপি জোট সরকারে যোগ দেন অজিত পাওয়ার। নতুন দলে গিয়ে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এদিকে দেশের বিভিন্ন অবিজেপি শাসিত রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি তদন্ত করছে। ইডি-সিবিআইকে ব্যবহার করে কেন্দ্র বিরোধীদের বিপাকে ফেলতে চাইছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এবার নাম না করেই ভাইপো অজিতকে খোঁচা দিলেন এনসিপি সভাপতি শরদ পাওয়ার।
আরও পড়ুন: আগামী সপ্তাহে রাজ্যে UGC, বিস্তর অভিযোগ যাদবপুর কর্তৃপক্ষের বিরূদ্ধে!


গত রবিবার (২০ আগস্ট) এনসিপির একটি বৈঠকে যোগ দিয়ে প্রবীণ নেতা শরদ পাওয়ার বলেন, “সাম্প্রতিক অতীতে বেশ কিছু পরিবর্তন হয়েছে। কিছু সদস্যরা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তাঁরা বলছেন যে উন্নয়নের জন্য় এই দলবদল করেছেন, কিন্তু এটা একটুও সত্যি নয়। কেন্দ্র এদের বিরুদ্ধে ইডি তদন্ত শুরু করেছিল, সেই তদন্ত থেকে বাঁচতেই তাঁরা এনসিপি ছেড়ে দিয়েছেন। কয়েকজন নেতাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল যে তাঁরা বিজেপিতে যোগ না দিলে অন্য কোথাও পাঠিয়ে দেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, “মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ ১৪ মাস জেলে ছিলেন। তাঁকেও দল বদল করতে বলা হয়েছিল কিন্তু তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। এনসিপি ছাড়েননি।”

শরদের এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অজিত পাওয়ারের দলবদলে যথেষ্ট আঘাত পেয়েছিলেন শরদ পাওয়ার। গতকালের সভায় নাম না করেই অজিতকে খোঁচা দিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, গত ২ জুলাই অজিত পাওয়ার এবং এনসিপির বিধায়কদের একাংশ একনাথ শিণ্ডে সরকারে যোগদান করেন। তার কয়েকদিনের মধ্যেই কাকা শরদ পাওয়ারের সঙ্গে দেখা করেন অজিত। জানা গিয়েছিল, শরদ পাওয়ারের স্ত্রী প্রতিভা পাওয়ার অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতাল থেকে বাড়িতে চলে এসেছিলেন। তাঁকে দেখতেই সেখানে যান অজিত। এনিয়েও অনেক প্রশ্ন, সমালোচনা শুরু হয়। এনিয়ে অজিত পাওয়ারের স্পষ্ট উত্তর ছিল, “আমার অধিকার আছে, কাকীর সঙ্গে দেখা করার।”



উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রের অর্থ দফতর উপমুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের কাছ থেকে অজিত পাওয়ারের কাছে দেওয়া হয়। পরিকল্পনা, কৃষি, সমবায়, নারী ও শিশু কল্যাণ, খাদ্য ও সরবরাহ, ডাক্তারি শিক্ষা, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের মত গুরুত্বপূর্ণ দফতর গিয়েছে অজিত শিবিরের ঝুলিতে। অজিত পাওয়ার ছাড়াও তালিকায় আছেন ছগন ভুজবল, দিলীপ ওয়ালসে পাটিল, অদিতি টাটকারে, ধনঞ্জয় মুন্ডে, হাসান মুশারিফ, ধরমরাজ বাবারাও আতরাম, সঞ্জয় বাঁসোদে এবং অনিল ভাইদাস পাটিল।
ইডি-র হাত থেকে বাঁচতে দলবদল! নাম না করেই ‘ভাইপো’ অজিতকে খোঁচা শরদের









