টলিউডে দীর্ঘদিন ধরে চলা ক্ষমতার রাজনীতি এবং কাজের সুযোগ নিয়ে বিতর্কের আবহে স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে। তোলাবাজি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতারের পর এবার সরব হলেন অভিনেতা তথা বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর দাবি, বহু বছর ধরে যে ‘বিষাক্ত পরিবেশ’ ইন্ডাস্ট্রিকে গ্রাস করেছিল, তার অবসানের ইঙ্গিত মিলছে।
বৃহস্পতিবার রাতে স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। অভিযোগ, টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান স্টুডিও সংলগ্ন এলাকায় টেকনিশিয়ানদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হত। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগও সামনে এসেছে। এই ঘটনার পর থেকেই টলিপাড়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা।


স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টলিউডের বিভিন্ন স্তরে এক ধরনের ভয় ও নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি কাজ করছিল। তাঁর অভিযোগ, ফেডারেশনকে কেন্দ্র করে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছিল যেখানে অনেক শিল্পী, কলাকুশলী, প্রযোজক ও পরিচালকের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছিল।
রুদ্রনীলের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনিক মদতের কারণে কিছু ব্যক্তি নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে বলে মনে করতে শুরু করেছিলেন। সেই পরিস্থিতির ফলেই বহু মানুষ কর্মক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁর। তিনি মনে করেন, বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই অভিযোগগুলির বিচার শুরু হয়েছে।
অভিনেতা আরও দাবি করেন, টলিউডে কাজের ক্ষেত্রেও মতাদর্শগত কারণে অনেক শিল্পীকে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য তিনি নিজেও দীর্ঘ সময় কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অতীতেও একাধিকবার অভিযোগ করেছিলেন।


রুদ্রনীলের বক্তব্যে উঠে এসেছে তথাকথিত ‘একঘরে করে দেওয়া’র সংস্কৃতির প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম না মানলে শিল্পী বা টেকনিশিয়ানদের কাজ হারানোর ভয় দেখানো হত। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।
স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি ঘিরে রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মহলে আলোচনা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে টলিউডের একাংশের। আগামী দিনে এই মামলার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



