তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি-সহ একাধিক অভিযোগে স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেপ্তার হওয়ার পর টলিউডে শুরু হয়েছে জোর প্রতিক্রিয়া। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পী ও কলাকুশলীদের একাংশ যে ‘ভয়ের পরিবেশ’-এর অভিযোগ তুলে আসছিলেন, সেই প্রসঙ্গই ফের সামনে এসেছে। এবার স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেপ্তারি নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। তাঁর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর শুক্রবার স্বরূপ বিশ্বাসকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়। আদালত তাঁকে ১৮ জুন পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই তোলাবাজির অভিযোগে আর্থিক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা শুরু করেছেন। অভিযোগ, বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে ঋত্বিক চক্রবর্তী বলেন, অভিযোগগুলি অত্যন্ত গুরুতর এবং সেগুলির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, পুলিশ তদন্ত করছে এবং তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর রাখা উচিত।
তবে শুধুমাত্র তদন্তের প্রসঙ্গেই থেমে থাকেননি অভিনেতা। টলিউডের পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগ উঠে আসছিল, সেই প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। ঋত্বিকের দাবি, ইন্ডাস্ট্রির অনেকের মধ্যেই এক ধরনের ভয় ও চাপের সংস্কৃতি কাজ করত। স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেপ্তারি সেই কারণেই অনেকের কাছে স্বস্তির বিষয় বলে মনে হচ্ছে।
অভিনেতার বক্তব্যে রাজনৈতিক ইঙ্গিতও স্পষ্ট। তিনি দাবি করেন, স্বরূপ বিশ্বাস ও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল প্রায়শই নিজেদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অনুপ্রেরণা’ হিসেবে তুলে ধরতেন। সেই কারণেই বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বলে মন্তব্য করেন ঋত্বিক।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ঋত্বিক চক্রবর্তীর এই মন্তব্য সম্পূর্ণরূপে তাঁর ব্যক্তিগত মতামত। স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি এখনও বিচারাধীন এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। একইভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিনেতার তোলা অভিযোগ বা ইঙ্গিতের কোনও স্বাধীন প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং টলিউডে চলা বিতর্কের আবহে স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেপ্তারি নতুন করে বহু পুরনো অভিযোগকে সামনে এনে দিয়েছে। শিল্পী মহলের একাংশ এই ঘটনাকে টলিউডের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করছেন, আবার অন্য অংশ তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ।
এখন নজর তদন্তের অগ্রগতির দিকে। কারণ, স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং সেই তদন্তের ফলাফলই আগামী দিনে টলিউড ও রাজ্য রাজনীতির আলোচনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।



