নতুন বছরের শুরুতেই রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে নামার প্রস্তুতি। ২০২৬ সালের মার্চ–এপ্রিলেই সম্ভাব্য বিধানসভা নির্বাচন, সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই এবার নিজের দলের বিধায়কদের স্পষ্ট বার্তা দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নির্দেশ একটাই—কলকাতায় নয়, বেশি সময় কাটান নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে।
সোমবার দুপুরে বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু। সেখানেই এক ঘরোয়া আলোচনার মাঝে সতীর্থ বিধায়কদের উদ্দেশে তিনি বুঝিয়ে দেন, ভোট যত কাছে আসবে, ততই এলাকায় থাকা এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কাজ।


‘ভোট এসে গিয়েছে, এলাকায় থাকুন’—বিধায়কদের স্পষ্ট বার্তা
বিধানসভায় উপস্থিত শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি-র সঙ্গে কথোপকথনের সময় শুভেন্দু জানতে চান, তিনি কেন কলকাতায় এসেছেন। চন্দনা জানান, বিধানসভার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যোগ দিতেই তাঁর আসা এবং কাজ সেরেই তিনি এলাকায় ফিরবেন।
এই কথোপকথন থেকেই বিষয়টিকে সামনে এনে শুভেন্দু বলেন,
“ভোট এসে গিয়েছে। শুধু চন্দনাই নয়, আপনাদের সবাইকেই বলব—নিজ নিজ এলাকায় থাকুন, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান।”
তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন,
“বিধানসভা বা কলকাতায় কাজ থাকলে সকালে এসে কাজ সেরে বিকেলের মধ্যেই নিজের কেন্দ্রে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করুন। এই সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”


কারা ছিলেন সেখানে?
সেই সময় বিধানসভায় বিজেপি পরিষদীয় দলের ঘরে উপস্থিত ছিলেন—
-
মুখ্যসচেতক শঙ্কর ঘোষ
-
পুরুলিয়ার বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়
-
কাঁথি দক্ষিণের বিধায়ক অরূপকুমার দাস
-
কাঁথি উত্তরের বিধায়ক সুমিতা সিংহ
-
তুফানগঞ্জের বিধায়ক মালতি রাভা
-
ডাবগ্রাম–ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়
সবাইকে একসঙ্গেই এই বার্তা দেন বিরোধী দলনেতা।
‘ভোট-রাজনীতি বোঝেন শুভেন্দু’—দলের মধ্যেই সমর্থন
শুভেন্দুর এই নির্দেশ প্রসঙ্গে এক বিজেপি বিধায়ক বলেন,
“শুভেন্দুদা নিজে যেমন সারা রাজ্য চষে বেড়ান, তেমনই নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রামেও নিয়মিত সময় দেন। ভোট-রাজনীতি নিয়ে তিনি কতটা সচেতন, সেটা আমরা সবাই জানি।”
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন,
“২০২১ সালে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়েও জিততে পারেননি—এটাই প্রমাণ করে, শুভেন্দু কতটা মাঠের রাজনীতি বোঝেন।”
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার উদাহরণ
দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে,
-
১৯৯৫ সাল থেকে কাউন্সিলর
-
২০০৬ সালে প্রথমবার বিধায়ক
-
২০০৯ সাল থেকে সাংসদ
-
মন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতা—দু’টি ভূমিকাই পালন
এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই শুভেন্দু বুঝতে চান, কীভাবে ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের এলাকায় সময় দিতে হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি সতীর্থ বিধায়কদের একই পথে চলার নির্দেশ দিচ্ছেন।
বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা কমেছে, তাই আরও সতর্কতা
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৭৭টি আসন জিতে প্রধান বিরোধী দল হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে—
-
দুই সাংসদের ইস্তফা
-
একাধিক বিধায়কের দলত্যাগ
-
ধূপগুড়ির বিধায়কের মৃত্যু
সব মিলিয়ে বর্তমানে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা নেমে এসেছে ৬৫-এ। এই অবস্থায় শুভেন্দু চান, সব বিধায়ক যেন নিজের নিজের কেন্দ্রে শক্ত ভিত গড়ে আবার বিধানসভায় ফিরে আসেন।
ভোট যত এগোচ্ছে, ততই মাঠের রাজনীতিতে জোর দিচ্ছে বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা স্পষ্ট—কলকাতার রাজনীতি নয়, এখন মূল লড়াই নিজের বিধানসভা এলাকায়। জনসংযোগই হবে আগামী নির্বাচনের মূল অস্ত্র।








