পাকিস্তানের লাহোরে দিনের আলোয় গুলির ভয়াবহ হামলা—নিশানায় কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ নেতা Amir Hamza। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি তিনি, পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক। এক বছরের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার তাঁর উপর হামলা হওয়ায় গোটা ঘটনায় নতুন করে রহস্য দানা বেঁধেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, লাহোরে একটি টিভি চ্যানেলের অফিসের বাইরে আচমকাই হামজাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীরা। একাধিক গুলি তাঁর শরীরে লাগে বলে খবর। ঘটনার পর দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও গত বছর মে মাসে নিজের বাড়ির সামনে একইভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন হামজা। সেই ঘটনার পর তাঁর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল বলে জানা গেলেও, সাম্প্রতিক এই হামলা সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
পাক পাঞ্জাবের গুজরানওয়ালায় জন্ম নেওয়া হামজা দীর্ঘদিন ধরে Lashkar-e-Taiba-র গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তিনি জঙ্গি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা Hafiz Saeed-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেই পরিচিত। আফগান যুদ্ধের সময় থেকেই তাঁর উত্থান শুরু।
ভারতে একাধিক জঙ্গি হামলার সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছে। বিশেষ করে ২০০৫ সালে বেঙ্গালুরুর আইআইএসসি-তে হামলার অন্যতম ষড়যন্ত্রী হিসেবে তাঁকে চিহ্নিত করা হয়। মার্কিন প্রশাসনের কাছেও তিনি ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গিদের তালিকায় ছিলেন।


লস্করের প্রচার শাখার মূল সংগঠক হিসেবে পরিচিত হামজা সংগঠনের মতাদর্শ ছড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তিনি ‘জৈশ-ই-মনকাফা’ নামে আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করলেও, তাঁর কার্যকলাপের ধরনে বিশেষ পরিবর্তন আসেনি বলে মনে করা হয়।
এই হামলার নেপথ্যে কারা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পাকিস্তান প্রশাসনের তরফেও কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে এই ঘটনাকে ঘিরে জল্পনা আরও বাড়ছে।








