নজরবন্দি ব্যুরো: পঞ্চায়েত ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির খবর সামনে আসছে। এর জন্যে কার্যত রাজ্যপালকেই কাঠগড়ায় তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার হাওড়ায় একটি সভার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন শুভেন্দু। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন,‘রাজ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে রাজীব সিনহার নিয়োগে সবুজ সঙ্কেত দেওয়ার আগে আরও তাঁর ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা উচিত ছিল রাজ্যপালের। রাজীব সিনহাকে নিয়োগ করা ঠিক হয়নি রাজ্যপালের।’


শুভেন্দু আরও বলেন, ‘এখন সংবাদমাধ্যমকে অনেক কিছু বলছেন রাজ্যপাল। কিন্তু তাঁর কথা এখন সরকার শুনবে না।’ রাজ্যের বিরোধী দলনেতার কথায়,‘সরকারের কাছ থেকে রাজভবনে নতুন কমিশনার নিয়োগের ব্যাপারে তিনজনের নামের তালিকা গিয়েছিল।‘ হাওড়ার ওই সভায় তিনজনের নামের তালিকা নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘‘রাজীব সিনহাকে নিয়োগ করার আগে রাজ্যপালের উচিত ছিল গোয়েন্দা বিভাগ সহ বিভিন্ন মহল থেকে ওই তিনজনের ব্যাপারে বিশদে খোঁজখবর নেওয়া৷ তার পরই রাজ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল তাঁর। তা না করে উনি মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দের রাজীব সিনহার নামে সিলমোহর দিয়ে দিলেন।’

শনিবার রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এই সাক্ষাৎ’র বিষয় হল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তি সহ নানা ইস্যু। এই প্রতিনিধি দল রাজভবন থেকে চলে যাওয়ার পর রাজ্যপালের তরফে কমিশনার রাজীব সিনহাকে রাজভবনে তলব করা হয়। রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে রাজ্যপালের বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহাকে ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলেন।
জানা যাচ্ছে, রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠিত করতে হবে। কোনও রকম অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না বলে কমিশনারকে সাফ জানিয়ে দেন রাজ্যপাল। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপাল শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করার ব্যাপারে কড়া বার্তা দেন। এরপরেই দেখা যায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আগামী ১৩ জুন সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়।


পঞ্চায়েত ভোট আবহ, রাজ্যপাল নিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু

রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি সহ অন্যান্য বিরোধীরা সর্বদলীয় বৈঠক না ডেকেই যেভাবে নজিরবিহীন ভাবে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে দিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। যদিও শুভেন্দু অধিকারী কমিশনের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেন, ‘’আমরা গণতন্ত্র মেনে চলা দল। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সর্বদলীয় বৈঠকে যাওয়া মানে ওয়েস্টেজ অফ টাইম।‘







