‘আর অত্যাচার সহ্য করব না’, চন্দ্রনাথ খুনে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

চন্দ্রনাথ রথ খুনের পর রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দিলীপ ঘোষের। “১৫ বছর অত্যাচার সহ্য করেছি, আর নয়,” মন্তব্য বিজেপি নেতার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় ফের উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতীদের গুলিতে চন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর হুঁশিয়ারি, “১৫ বছর ধরে অত্যাচার সহ্য করেছি, আর অত্যাচার চলবে না।” একই সঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় বাইক আরোহী দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন চন্দ্রনাথ রথ। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর মাথায় পরপর তিনটি গুলি করা হয়। ঘটনায় গুরুতর জখম হন গাড়িতে থাকা আরও এক ব্যক্তি বুদ্ধদেব বেরা।

ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “যারা বলছে হিংসা হচ্ছে, তারা কিন্তু হিংসা থামাচ্ছে না। কালই বলেছিলাম, এগুলো যদি না থামে, তাহলে প্রতিরোধ করা হবে। বিজেপি সারা দেশে ভোটে জেতে, কিন্তু কোথাও মারধর বা লুটপাট করে না। ১৫ বছর ধরে আমরা অত্যাচার সহ্য করেছি। আর অত্যাচার চলবে না। গুলি-বন্দুকের সংস্কৃতি বন্ধ করতেই হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এটা নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশের দেখা উচিত। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রশাসনের দায়িত্ব।”

এখানেই থামেননি বিজেপি নেতা। পরোক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে নিশানা করে তাঁর মন্তব্য, “যিনি পুলিশমন্ত্রী ছিলেন, তিনি এখন ড্রামা করতে ব্যস্ত। জীবনে কোনও কিছু সফলভাবে করতে পারেননি। এই যে গুন্ডাদের রাজনীতিতে আনা হচ্ছে, তার ফল এখন সবাই ভুগছে।”

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি দোহাড়িয়া লেনের ভিতরে ঢোকার সময় একটি গাড়ি সামনে এসে রাস্তা আটকায়। এরপর বাইকে করে আসা কয়েক জন দুষ্কৃতী এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। হামলাকারীদের মাথায় হেলমেট ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

চন্দ্রনাথ রথকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই নেতা গত কয়েক বছর ধরে তাঁর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতেন। ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন