শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্তে উঠে এল একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সুপারি কিলারদের দিয়েই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত চার চাকার গাড়িটি ছিল চোরাই। সেই গাড়ি দিয়েই প্রথমে চন্দ্রনাথের গাড়ির রাস্তা আটকানো হয়, তারপর বাইকে এসে দুষ্কৃতীরা কাছ থেকে গুলি চালায়। ঘটনায় নতুন মোড় আসতেই তদন্তে নেমেছে সিআইডির হোমিসাইড শাখা।
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় চন্দ্রনাথ রথ-এর গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। প্রথমে একটি চার চাকার গাড়ি রাস্তা আটকে দেয় বলে অভিযোগ। তারপর পিছন দিক থেকে বাইকে আসা দুষ্কৃতীরা পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই গুরুতর জখম হন চন্দ্রনাথ। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।


তদন্তে উঠে এসেছে, হামলায় ব্যবহৃত চার চাকার গাড়িটি চুরি করা ছিল। সেই সূত্র ধরেই এখন তদন্ত এগোচ্ছে। গাড়িটি কোথা থেকে চুরি হয়েছিল, কারা ব্যবহার করছিল এবং হামলার আগে কোথায় কোথায় সেটি গিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল, গাড়ি এবং মৃতদেহের ক্ষতচিহ্ন থেকে একাধিক নমুনা সংগ্রহ করেছেন। কী ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের ধারণা, হামলাকারীরা পেশাদার এবং গোটা অপারেশনটি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে চালানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে সিআইডির হোমিসাইড শাখার আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর দায়ের করা হবে। এরপর পুরো তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে।


ঘটনা প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর দাবি করেছেন, “দুই-তিন দিন ধরে রেইকি করে পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। পুলিশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পেয়েছে। সেই সূত্র ধরেই তদন্ত এগোচ্ছে।”
এখনও পর্যন্ত ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়ার আশা করছেন তদন্তকারীরা। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই হত্যাকাণ্ড শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং সুপরিকল্পিত অপরাধচক্রের ইঙ্গিতও বহন করছে।







