৮৫০৫ গ্রুপ-বি অফিসারকে মঙ্গলবারই দায়িত্ব নিতে হবে, এসআইআর মামলায় কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ। নামের গরমিল ও নোটিস বিতর্কের মাঝেই রাজ্যের দেওয়া ৮,৫০৫ জন গ্রুপ-বি কর্মীকে মঙ্গলবারের মধ্যে দায়িত্ব নিতে হবে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

এসআইআর (Special Intensive Revision) ঘিরে দীর্ঘ টানাপড়েনের মাঝে বড় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্য সরকারের দেওয়া ৮,৫০৫ জন কর্মীকে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ডিইও বা ইআরও-র কাছে রিপোর্ট করে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে—সোমবার স্পষ্ট জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এই কর্মীরা অবশ্যই গ্রুপ–বি অফিসার হবেন—এ নিয়ে কোনও অস্পষ্টতা চলবে না।

নামের সামান্য গরমিল থেকে মধ্যনাম বাদ পড়া—এসব কারণেই গণহারে নোটিস পাঠানো হচ্ছে কি না, কমিশনের সফটওয়্যার বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাচ্ছে কি না—এসব প্রশ্নে আগেই নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছিল আদালত। সোমবারের নির্দেশে বোঝা গেল, ভোটারদের অযথা হয়রানি বন্ধ করতেই দ্রুত প্রশাসনিক সমাধান চায় শীর্ষ আদালত।

কী প্রেক্ষাপটে এই নির্দেশ

গত শুনানিতে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন ওঠে। নির্বাচন কমিশন আদালতকে জানায়, রাজ্য পর্যাপ্ত কর্মী না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে মাইক্রো অবজ়ার্ভার নিয়োগ করতে হয়েছে। পাল্টা রাজ্যের বক্তব্য—তারা কর্মী দিতে প্রস্তুত, কিন্তু কমিশন অতি কঠোর সফটওয়্যার ব্যবহার করে বাস্তবতা উপেক্ষা করছে।

এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আইনজীবীদের সঙ্গে আদালতে হাজির হয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মী দেওয়ার আশ্বাস দেন। তার পরই রাজ্য জানায়, তারা ৮,৫০৫ জন গ্রুপ–বি অফিসার দিতে পারবে।

সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ

সোমবার আদালত জানিয়ে দেয়—

  • রাজ্যকে নিশ্চিত করতে হবে যে ৮,৫০৫ জনই গ্রুপ–বি অফিসার

  • এই কর্মীদের মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ডিইও (District Election Officer) বা ইআরও (Electoral Registration Officer)-র কাছে রিপোর্ট করে দায়িত্ব নিতে হবে।

  • এঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন না, বরং ইআরও/এআরও-দের সহায়তা করবেন—এই সীমারেখা মানতে হবে।

প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, প্রয়োজনে রাজ্যের অফিসাররা নথি দেখবেন, মতামত দেবেন—তাতে সিদ্ধান্ত আরও মজবুত হবে। তবে এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও বাধা বরদাস্ত করা হবে না।

‘বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না’—কোর্টের উদ্বেগ

শুনানিতে বিচারপতিরা কমিশনের ব্যবহৃত সফটওয়্যার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। মধ্যনাম (যেমন বাংলায় বহুল ব্যবহৃত ‘কুমার’) বাদ পড়লেই নোটিস পাঠানো, বয়সের ব্যবধানকে অতি যান্ত্রিক ভাবে ব্যাখ্যা—এসবকে “অতি কঠোর” বলে মন্তব্য করেন আদালত। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর পর্যবেক্ষণ, বাস্তবে ২০ বছর বয়সেও বিয়ে হয়—সব ক্ষেত্রে ৫০ বছরের ব্যবধান মানেই দাদু-নাতির সম্পর্ক নয়।

১৪ লক্ষ শুনানি বাকি, তবু দ্রুততা কেন

কমিশন জানায়, এখনও প্রায় ১৪ লক্ষ ভোটারের শুনানি বাকি। মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের অন্তত ১০ দিনের প্রশিক্ষণ দরকার বলেও দাবি করা হয়। কিন্তু আদালত মনে করিয়ে দেয়—রাজ্যের অফিসাররা যোগ দিলে সহায়তা বাড়বে, কাজ দ্রুত এগোবে।

রাজ্য বনাম কমিশন—দাবি ও পাল্টা দাবি

  • রাজ্যের আইনজীবীদের বক্তব্য: নামের বানান গরমিলকে হাতিয়ার করে ভোটার বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

  • কমিশনের অভিযোগ: রাজ্য নির্দেশ মানছে না, অসহযোগিতা করছে।

  • আদালতের অবস্থান: দু’পক্ষকেই সমন্বয়ের পথে হাঁটতে হবে; ভোটারদের অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

রাজনৈতিক রং টানার সতর্কবার্তা

মুখ্যমন্ত্রীর সওয়াল নিয়ে ওঠা অভিযোগে প্রধান বিচারপতি কড়া বার্তা দেন—সংবিধানের উপর আস্থা প্রকাশকে রাজনীতিকরণ করা যাবে না। আদালতের মতে, এই মামলায় প্রশাসনিক সমাধানই মুখ্য।

কেন এই নির্দেশ গুরুত্বপূর্ণ

এই নির্দেশে এক দিকে যেমন কমিশনের কাজ গতি পাবে, তেমনই অন্য দিকে রাজ্যের অফিসাররা মাঠে নামলে ভাষাজ্ঞান ও স্থানীয় বাস্তবতা সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হবে। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার আগে (১৪ ফেব্রুয়ারি) যাতে গণহারে বাদ পড়ার অভিযোগ না ওঠে—সেই লক্ষ্যেই আদালতের এই সময়সীমাবদ্ধ হস্তক্ষেপ।

সব মিলিয়ে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা এখন এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য ডেডলাইন। রাজ্য ও কমিশন—দু’পক্ষই এই নির্দেশ কতটা কার্যকর ভাবে মানে, তার উপরই নির্ভর করবে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পথচলা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত