সন্দেশখালির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজনৈতিক মহল। শুক্রবার সকালে রেশন দুর্নীতির তদন্তে হানা দিতে গিয়ে তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখের অনুগামীরা চড়াও হলেন ইডি অফিসারদের ওপর। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দিয়ে এনআইএ তদন্তের দাবি করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এবার তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবার হুঁশিয়ারি দিলেন বালুরঘাটের সাংসদ।
আরও পড়ুন: সন্দেশখালির ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ বোসের, রাজভবনে তলব রাজ্যের ৩ শীর্ষ পদাধিকারিককে


এদিন কোচবিহার থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) বলেন, “এই ঘটনা আগেও রাজ্যে ঘটেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির মতো পরিস্থিতি, অমিত শাহকে চিঠি দিয়েছি। বিজেপি ছেড়ে দেবে না। তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানকে শায়েস্তা করে ছাড়ব।”

অমিত শাহকে চিঠি দেওয়ার প্রসঙ্গটি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। সেই সঙ্গে আপলোড করেছেন চিঠির একটি প্রতিলিপিও। পাশাপাশি, তিনি লিখেছেন, “আজ সন্দেশখালিতে ইডি আধিকারিকদের উপর নৃশংস হামলায় এটা প্রমাণিত, কিভাবে তৃণমূল সরকার সারা বাংলা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা করছে… এর থেকে বাংলার মানুষকে নিষ্কৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে আমি আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ মহাশয়কে লিখিত আবেদন করেছি যাতে এই বিষয়ে অবিলম্বে NIA তদন্ত করা হয় যাতে বাংলার মাটিতে শান্তি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়…”

শুক্রবার সকালে সন্দেশখালির তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। যদিও তালাবন্ধ বাড়িতে অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর সেই বাড়ির তালা ভাঙার চেষ্টা করেন গোয়েন্দারা। ঠিক সেই সময়ই শুরু হয় বিক্ষোভ। কয়েক জন স্থানীয় ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিজেদের শাহজাহান শেখের অনুগামী বলে পরিচয় গোয়েন্দাদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ধাক্কা দেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও।



‘তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানকে শায়েস্তা করে ছাড়ব’, সন্দেশখালির ঘটনা প্রসঙ্গে হুঁশিয়ারি সুকান্তর
পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগেই কোনও রকমে ঘটনাস্থল ছাড়েন ইডি আধিকারিকেরা। তারপরও ইট দিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। অবরোধ করা হয় রাস্তা। টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদে নেমেছেন তৃণমূল নেতার অনুগামীরা। মাথা ফেটে জখম হওয়া এক আধিকারিককে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। জখম হয়েছেন আরও দু’জন আধিকারিক। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে স্থানীয় পুলিশের সাহায্য চাওয়া হয়েছে।








