চরমে সংঘাত, অযোগ্যতার কারণে রাজ্যপালের অপসারণের দাবি রাজ্যের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ চরমে সংঘাত, অযোগ্যতার কারণে রাজ্যপালের অপসারণের দাবি রাজ্যের। রাজ্যের সঙ্গে রাজ্যপাল জগদীপ ধনগরের সম্পর্ক বরাবরই নরমে গরমে। তবে রাজ্যে তৃতীয় বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গড়ার পর আশা কড়া হয়েছিল সেই সম্পর্কে কিছুটা উন্নতি হবে। রাজ্যের মন্ত্রীসভার শপথগ্রহণের সময় কিছুটা হলেও সেই সৌজন্যের ছবি ধরা পড়ে। তবে শপথগ্রহন মিটতেই সেই পুরনো সংঘাতের সম্পর্কই ফিরে আসে।

আরও পড়ুনঃ অপেক্ষার অবসান, ভারতে শুরু হল রাশিয়ার স্পুটনিক ৫ প্রয়োগে টীকাকরণ।

শপথ গ্রহণের কিছুক্ষন পরেই ভোটকেন্দ্রিক হিংসা নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে রাজ্যকে সরাসরি আক্রমন করেন রাজ্যপাল। শুধু তাই নয় হিংসা কবলিত এলাকা নিজে ঘুরে দেখবেন বলে জানান। কার্যত রাজ্য প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখেই গতকাল রাজ্যের ‘হিংসা কবলিত’ এলাকাগুলি পর্যবেক্ষণে বেরিয়েছেন তিনি। কোচবিহারের শীতলকুচিতে গিয়ে রাজ্য প্রশাসনকে সরাসরি আক্রমন করেন তিনি। শুধু তাই নয় রাজ্যের বাইরে অসমে গিয়েও ভোট কেন্দ্রিক হিংসা নিয়ে রাজ্য সরকারকে চরম আক্রমন শানান তিনি।

সেখানে গিয়ে দাবি করেন “বাংলা থেকে বহু মানুষ হিংসার কবলে পড়ে অসমে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। পছন্দ মতো দলকে ভোট দেওয়ার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বিচারে আক্রান্ত হতে হচ্ছে বিরোধীদের। অথচ, পুলিশ প্রশাসন কার্যত ঠুঁটো জগন্নাথ। রাজ্যে বেলাগাম অরাজকতা চলছে। রাজ্যের পরিস্থিতি ভয়াবহ। আর সহ্য করা যাচ্ছে না।” অন্যদিকে রাজ্যপালের এই সফর নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। তাঁদের দাবি, , বেছে বেছে আক্রান্ত বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন রাজ্যপাল। তৃণমূল কর্মীরাও আক্রান্ত হয়েছেন, অথচ তা নিয়ে মাথাব্যাথা তাঁর নেই। এই নিয়ে তৃণমূল সাংসদ শুখেন্দুশেখর রায় বলেন “দিল্লির শাহেনশাদের এজেন্ট ধনকড়। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে হিংসায় ইন্ধন দিচ্ছেন তিনি। বিজেপি নেতার মতো কাজ করছেন। তিনি রাজ্যপালের পদে থাকার যোগ্যই নন। দ্রুত তাঁকে অপসারণ করা উচিত।”

চরমে সংঘাত, অযোগ্যতার কারণে রাজ্যপালের অপসারণের দাবি রাজ্যের। এরপরেই বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসায় ইন্ধন যোগানর অভিযোগে তাঁর অপসারণ চাইল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁদের দাবি পক্ষপাতদুষ্ট কেউ এই পদে থাকার যোগ্য নন। তাই তাঁকে দ্রুত অপসারণ করা হোক। এই ঘটনায় ফের দুই পক্ষের তীব্র সংঘাত প্রকাশ্যে চলে এল। প্রসঙ্গত, এর আগে গতবছর ডিসেম্বর মাসে রাজ্যপালের অপসারণের দাবিতে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়েছিল তৃণমূল। সেই স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সাংসদ কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়রা। ফের তারা একই পদক্ষেপ নিতে চলেছেন বলেই শাসক শিবির সূত্রে খবর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত