নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রায় ৭০ দিন ধরে শহিদ মিনারের সামনে ধর্না জারি রেখেছেন ডিএ আন্দোলনকারীরা। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে মাত্র ৩ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করা হলেও এখনও নমনীয় মনোভাব দেখা যায়নি। তাই ধর্না জারি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্দোলনকারীরা। বৃহস্পতিবার ডিএ আন্দোলনকারীদের নিয়ে বিরাট সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা হাইকোর্ট। ডিএ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসুক রাজ্য। নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির।
কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতার দাবিতে দীর্ঘ সময় ধরে লাগাতার আন্দোলন জারি রেখেছে রাজ্যের একাধিক সরকারি কর্মচারিদের সংগঠনগুলি। ধর্মঘট, পেন ডাউন বা সিজ ওয়ার্ক করে প্রতিবাদের জোর আরও বাড়াচ্ছেন সরকারি কর্মীরা। এভাবে কাজ বন্ধ রাখার ফলে ৪৩৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এমনটাই অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেন আইনজীবী রমাপ্রসাদ সরকার। সেই মামলার শুনানি ছিল বৃহস্পতিবার।
আদালতের তরফে আগামী ১৭ তারিখের মধ্যে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে বলা হয়েছে। মুখ্যসচিব, অর্থসচিব সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা বলেছেন প্রধান বিচারপতি। তিনি উল্লেখ করেছেন, সিজ ওয়ার্ক আর বনধ দুটি আলাদা বিষয়। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন নিয়ে আদালতের কিছু বলার নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, আমরা জানি রাজ্য শো কজ নোটিশ দিয়েছে। কিন্তু এটাও ঠিক যে একটা দিন নষ্ট করা হয়েছে। পেন ডাউনের মতো ঘটনা নিত্যদিন হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি চলছে। আদালতে শুনানি পিছিয়ে গেলে ফের এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। তাই ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
প্রসঙ্গত, শুরু থেকেই আন্দোলনকারীরা দাবি করে আসছেন কেন্দ্রীয় হারেই ডিএ দিতে হবে তাঁদের। বর্তমানে ৬ শতাংশ ডিএ পাচ্ছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। তাঁদের দাবি, প্রাপ্য আরও ৩৬ শতাংশ ডিএ দিতে হবে রাজ্যকে। সরকারের তরফে বাজেট ঘোষণার দিন বর্ধিত তিন শতাংশ হারে ডিএর ঘোষণা করা হয়। যা আন্দোলনে আরও ঘৃতাহুতি দিয়েছে।
ডিএ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসুক রাজ্য, কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের

এদিন আদালতে সরকারি কর্মচারী সংগঠনের আইনজীবী বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যে দিন বনধের জন্য কাজ করা হবে না, তার বদলে পরে শনিবার বা রবিবার কাজ করতে রাজি আছেন কর্মীরা। তারপরেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। পাল্টা নিজে দায়িত্ব নিয়ে আন্দোলনরত কর্মীসংগঠনগুলিকে বোঝাবেন। এমনটাই জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট জেনারেল সৌমেন্দ্রনাথ মুখ্যোপাধ্যায়।



