এসএসসি দুর্নীতি মামলায় নতুন মোড়। সোমবার সিবিআইয়ের তদন্তাধীন নিয়োগ দুর্নীতি মামলার অষ্টম সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্যেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে—মুক্তি কি তবে এবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, এই তিনটি মামলায় মোট আটজন সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ হওয়ার পর প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর জামিনের পথ খুলে যেতে পারে।
বর্তমানে পার্থ চট্টোপাধ্যায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন পূর্ব যাদবপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে। প্রেসিডেন্সি জেলের পক্ষ থেকে আদালতের নির্দেশ পৌঁছলেই, চিকিৎসকদের অনুমতি নিয়ে মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আইনি মহলের মত। এই সাক্ষ্যগ্রহণের ফলেই দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি প্রাক্তন মন্ত্রীর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতে পারে।


এদিকে, সোমবারের শুনানিতে এক প্রাক্তন এসএসসি আধিকারিকের সাক্ষ্য আদালতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। তিনি জানান, ফল প্রকাশের পর হঠাৎই প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য অফিসে ডেকে নির্দেশ দেন তালিকা “আপডেট” করার। তাঁর কথায়, “চূড়ান্ত তালিকা সংশোধনের নির্দেশ আসে চেয়ারম্যানের কাছ থেকে। পর্ণা বসুকে তিনি ডাকেন ও বলেন, ফল বদলে নতুন তালিকা প্রকাশ করতে হবে।”
সাক্ষীর দাবি অনুযায়ী, সেই সংশোধিত তালিকায় এমন নাম যুক্ত হয় যা আগে প্রকাশিত ফলাফলে ছিল না। ফল প্রকাশের পরও প্রার্থীদের নাম যোগ করা হয় এবং নতুন তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। তিনি আরও জানান, নিয়োগপত্র বিলি হওয়ার দিনই এক মহিলা প্রার্থীর নাম ‘অ্যাটেনডেন্স’-এর জায়গায় ঢোকানো হয় এবং সেই প্রার্থী খাতায় সইও করেন।
সাক্ষীর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া হয়েছিল প্রাক্তন এসএসসি কর্তা শান্তিপ্রসাদ সিংয়ের নির্দেশে। এমনকি, ‘আরটিআই’ নামের এক ফাইল থেকে অঙ্কিতা অধিকারীর নামও প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বলে আদালতে জানান তিনি।


এই সাক্ষ্য প্রমাণ করে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক স্তরে হস্তক্ষেপ হয়েছিল বলে সিবিআইয়ের ধারণা আরও দৃঢ় হয়েছে। তদন্ত সংস্থার দাবি, ফল প্রকাশের পর তালিকা পাল্টানো এবং প্রার্থীদের নাম যুক্ত করা ছিল দুর্নীতির মূল অংশ, যা থেকেই কোটি টাকার ঘুষের পথ খুলেছিল।
এদিকে, আদালতে উপস্থিত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সোমবার সাক্ষ্যগ্রহণের পর তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে জামিনের আবেদন করবেন। আলিপুর সিবিআই আদালতের নির্দেশেই জানা যাবে, এসএসসি দুর্নীতি মামলার অষ্টম সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে পার্থর জেলজীবনের অবসান ঘটবে কি না।
বিচার বিভাগীয় মহলে এখন চরম কৌতূহল—এই অষ্টম সাক্ষ্যগ্রহণ কি পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে আলোচিত নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নতুন দিক উন্মোচন করবে, নাকি এটি হবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মুক্তির সূচনা? সময়ই বলবে উত্তর।







