জশপ্রীত বুমরাহকে (Jasprit Bumrah) প্রথমে ফিট ঘোষণা করে পরে শ্রীলঙ্কা সফরে না খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ভারতীয় পেস আক্রমণ নিয়ে মুখ খুললেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly)। তাঁর মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে বুমরাহকে সব সিরিজে খেলানো সম্ভব নয়। তাই দীর্ঘ টেস্ট সিরিজে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে মহম্মদ শামিকে (Mohammed Shami) জাতীয় দল থেকে এত দ্রুত বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তেও প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক।
বুমরাহ ও সাই সুদর্শনকে (Sai Sudharsan) নিয়ে পরপর বদলানো সিদ্ধান্তে ইতিমধ্যেই ক্রিকেটমহলে প্রশ্ন উঠেছে। প্রথমে ফিট ঘোষণা, পরে সফরে না খেলার খবর—এই পরিস্থিতিতে নির্বাচক কমিটি ও টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা চলছে। সেই আবহেই সৌরভ মনে করিয়ে দিয়েছেন, বুমরাহর মতো গুরুত্বপূর্ণ পেসারকে এখন আগের মতো প্রতিটি সিরিজে খেলানো সম্ভব নয়।
সৌরভের বক্তব্য, কয়েক বছর আগে বুমরাহ প্রায় সব সিরিজেই খেলতেন। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। বিশেষ করে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে একজন পেসারকে প্রতিটি ম্যাচ খেলিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাঁর মতে, সামনের বছর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচ টেস্টের সিরিজেও বুমরাহকে সব ম্যাচে খেলানোর পরিকল্পনা করা ঠিক হবে না।
এই জায়গাতেই সৌরভের পরামর্শ, বুমরাহ ও শামিকে একসঙ্গে ভারতীয় দলে রাখা উচিত ছিল। পাঁচ ম্যাচের দীর্ঘ সিরিজে দু’জনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বিশ্রামের ব্যবস্থা করা যেত। যে ম্যাচে বুমরাহ খেলবেন, সেখানে শামিকে বিশ্রাম দেওয়া যেতে পারে। আবার শামি খেললে বুমরাহকে বিশ্রামে রাখা সম্ভব। সঙ্গে থাকবেন মহম্মদ সিরাজ (Mohammed Siraj)। সৌরভের মতে, এই পরিকল্পনাই পেসারদের ওয়ার্কলোড সামলে সেরা বোলিং আক্রমণ ধরে রাখার সহজ উপায়।
বিদেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিততে গেলে সেরা পেসারদের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও জোর দিয়েছেন সৌরভ। তাঁর মতে, পরিস্থিতি কঠিন হলে ভারতের হাতে থাকা সেরা বোলারদের ব্যবহার করতেই হবে। বিশেষ করে ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে পেস আক্রমণের গভীরতা ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আর সেই কারণেই শামিকে জাতীয় দল থেকে দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সৌরভের আপত্তি। তাঁর মতে, ভারতীয় ক্রিকেটে শামির অবদান অসামান্য এবং এখনও দেশের হয়ে দেওয়ার মতো অনেক কিছু রয়েছে তাঁর। শামিকে নিয়মিত পারফর্ম করতে দেখা যাচ্ছে বলেও দাবি করেছেন সৌরভ।
শামির সাম্প্রতিক ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্সের কথাও তুলে ধরেছেন প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক। তাঁর বক্তব্য, শামি রঞ্জি ট্রফিতে নিয়মিত ম্যাচ খেলেছেন এবং উইকেটও নিয়েছেন। শুধু রঞ্জি নয়, টি-টোয়েন্টি ও বিজয় হাজারে ট্রফিতেও খেলেছেন তিনি। অর্থাৎ ম্যাচ খেলার ধারাবাহিকতা এবং বোলিংয়ের চাপ সামলানোর সক্ষমতা দুটোই রয়েছে।
সৌরভ বিশেষ করে রঞ্জি ট্রফিতে শামির করা ওভারগুলির দিকেও নজর দিতে বলেছেন। তাঁর মতে, এতটা বোলিং করার পরও যদি শামি নিয়মিত খেলতে পারেন, তাহলে তাঁর ফিটনেস নিয়ে বড় প্রশ্ন থাকার কথা নয়। এই কারণেই জাতীয় দলে তাঁকে আরও সময় দেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন সৌরভ।
তবে বুমরাহকে নিয়ে সৌরভের বক্তব্যে কোনও সংশয় নেই। ভারতের সেরা পেসারকে দীর্ঘদিন ধরে সুস্থ ও কার্যকর রাখতে বিশ্রাম ও ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট জরুরি। তাই ছোট টেস্ট সিরিজে সমস্যা কম হলেও পাঁচ ম্যাচের সিরিজে পরিকল্পিত রোটেশন দরকার বলেই মনে করেন তিনি।
সৌরভের প্রস্তাবের মূল বক্তব্য হল, বুমরাহকে বিশ্রাম দেওয়ার অর্থ তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়া নয়। বরং তাঁর সঙ্গে শামি ও সিরাজকে রেখে ম্যাচ অনুযায়ী পেস আক্রমণ সাজানোই হতে পারে ভারতের জন্য কার্যকর পথ। এতে একদিকে বুমরাহর উপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না, অন্যদিকে অভিজ্ঞ শামিকেও পুরোপুরি বাইরে রাখতে হবে না।
সাই সুদর্শনকে ঘিরে নির্বাচনী সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গও এই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। প্রথমে ফিট ঘোষণা করে পরে তাঁকে নিয়ে বদলানো অবস্থান ক্রিকেটমহলে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও সৌরভের মূল বক্তব্য বুমরাহ-শামিকে ঘিরেই—দীর্ঘ মরসুমে তারকা ক্রিকেটারদের ব্যবহার করতে হলে শুধু ফিটনেস নয়, সঠিক পরিকল্পনাও জরুরি।
সব মিলিয়ে সৌরভের বার্তা স্পষ্ট—বুমরাহকে বাঁচিয়ে রাখতে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট করতেই হবে, কিন্তু সেই কারণে শামির মতো অভিজ্ঞ ও ধারাবাহিক পেসারকে দ্রুত জাতীয় দলের বাইরে রাখা উচিত নয়। বিদেশের কঠিন টেস্ট সিরিজে ভারতের সাফল্যের জন্য দুই অভিজ্ঞ পেসারকে একসঙ্গে দলে রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্রাম দেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।



