সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি, শালবনি জমি মামলায় বৃহস্পতিবারও সিআইডির তলব সুমিতকে

শালবনি জমি সংক্রান্ত মামলায় বুধবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএ সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। উত্তর নিয়ে অসন্তোষ থাকায় বৃহস্পতিবারও তাঁকে ভবানী ভবনে তলব করা হয়েছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

শালবনি জমি মামলায় সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। সেই কারণেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়কে আজ, বৃহস্পতিবার ফের ভবানী ভবনে তলব করা হয়েছে। বুধবারও তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জমি সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন, ভুয়ো নথি তৈরি এবং ওই ঘটনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

সিআইডি সূত্রে খবর, বুধবারের জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর নিয়ে তদন্তকারীরা সন্তুষ্ট হতে পারেননি। একই সঙ্গে তদন্তে পাওয়া কিছু তথ্যের সত্যতা যাচাই করাও প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। সেই কারণেই বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও সুমিতকে ফের ডেকে পাঠানো হয়েছে।

শালবনি জমি সংক্রান্ত প্রতারণার মামলায় আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি নথি তৈরির প্রক্রিয়ায় কারা যুক্ত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে সিআইডি। এই ঘটনায় সুমিত রায়ের ভূমিকা কী ছিল এবং তাঁর সঙ্গে মামলায় অভিযুক্ত বা সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের কোনও আর্থিক বা যোগাযোগের যোগ ছিল কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে।

বুধবারের জিজ্ঞাসাবাদের পুরো পর্বই ভিডিয়ো রেকর্ড করা হয়েছে বলে সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে। তদন্তের প্রতিটি ধাপ নথিবদ্ধ রাখতেই এই রেকর্ডিং করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ফের তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আগের দিনের উত্তরের সঙ্গে নতুন তথ্য মিলিয়ে দেখা হতে পারে।

গত শনিবার থেকেই সুমিত রায়কে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিআইডি। টানা কয়েক দিন ধরে তদন্তকারী সংস্থার তলবে তাঁকে হাজির হতে হচ্ছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন সুমিত। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন এবং তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।

সুমিতের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার আইনি লড়াইও এখনও কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) বিচারাধীন। উচ্চ আদালত এবং সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court of India) নির্দেশ অনুযায়ী তদন্তে সহযোগিতা করার শর্তে তাঁর গ্রেপ্তারের উপর আপাতত স্থগিতাদেশ এবং আগাম জামিনের সুরক্ষা রয়েছে।

এই আইনি সুরক্ষা থাকা সত্ত্বেও সিআইডির পরপর তলব নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সুমিতের ঘনিষ্ঠদের অভিযোগ, তাঁকে বারবার জিজ্ঞাসাবাদের নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তাঁদের দাবি, তদন্তের নামে তাঁকে হেনস্থা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, মামলার তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারের উপর আদালতের সুরক্ষা থাকলেও তদন্তে সহযোগিতা করার শর্ত বহাল রয়েছে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা যেতে পারে বলেই তদন্তকারী সূত্রের দাবি।

এখন বৃহস্পতিবারের জিজ্ঞাসাবাদে নতুন কী তথ্য উঠে আসে, সিআইডির হাতে থাকা তথ্যের সঙ্গে সুমিতের বক্তব্য কতটা মেলে এবং শালবনি জমি মামলায় আর্থিক লেনদেন ও ভুয়ো নথির অভিযোগে তাঁর ভূমিকা নিয়ে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন