‘পাকিস্তানের প্রেমে মরে যাচ্ছেন’, নাসিরুদ্দিন শাহকে ফের নিশানা কঙ্গনার, তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ

ঝাড়খণ্ডের আন্দোলন নিয়ে নাসিরুদ্দিন শাহের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে ফের আক্রমণ কঙ্গনা রানাউতের। পাকিস্তান ও দেশভাগের প্রসঙ্গেও প্রবীণ অভিনেতাকে নিশানা করলেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নাসিরুদ্দিন শাহকে (Naseeruddin Shah) নিয়ে ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপি সাংসদ-অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত (Kangana Ranaut)। ঝাড়খণ্ডের শিক্ষা ও নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে নাসিরুদ্দিনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবার তাঁকে পাকিস্তানের প্রতি ‘অগাধ প্রেম’-এর অভিযোগেও বিদ্ধ করলেন কঙ্গনা। দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার (Rekha Gupta) সঙ্গে তিঝ উৎসব উদযাপনের মাঝে সংবাদসংস্থা এএনআই-এর (ANI) মুখোমুখি হয়ে প্রবীণ অভিনেতাকে নিয়ে আরও এক দফা তোপ দাগেন তিনি।

নাসিরুদ্দিনের সঙ্গে কঙ্গনার বাকযুদ্ধ অবশ্য নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লির যন্তর মন্তরের একটি বিক্ষোভ নিয়ে বলিউডের নীরব তারকাদের সমালোচনা করেছিলেন নাসিরুদ্দিন। তাঁর সেই মন্তব্যের পরেই কঙ্গনা পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, দিল্লির আন্দোলন নিয়ে সরব হওয়া প্রবীণ অভিনেতা ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়াদের আন্দোলন নিয়ে নীরব কেন?

ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও শিক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগের প্রতিবাদে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন চলছে। বহু পরীক্ষার্থী রাস্তায় নেমেছেন। এই পরিস্থিতিতে নাসিরুদ্দিনের নীরবতাকে সামনে এনে কঙ্গনার বক্তব্য, দেশের এক জায়গার আন্দোলন নিয়ে সরব হলে অন্য জায়গার আন্দোলন নিয়েও একইভাবে কথা বলা উচিত।

এর আগে নাসিরুদ্দিন বলিউডের একাংশের নীরবতাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। কঙ্গনা সেই মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, প্রত্যেকে কোনও না কোনও পক্ষের প্রতি অনুগত। তবে তাঁর নিজের অবস্থান নিয়ে কোনও দ্বিধা নেই বলেই দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, যে দেশের ‘খাবার’ খান, সেই দেশের পক্ষেই দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনে তার জন্য লড়াই করা উচিত।

এর পরেই নাসিরুদ্দিনকে সরাসরি নিশানা করে কঙ্গনা বলেন, প্রবীণ অভিনেতা দেশে থেকে প্রতিবেশী দেশের জন্য লড়াই করেন। এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে কেন তিনি নাসিরুদ্দিনের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ।

এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা দাবি করেন, নাসিরুদ্দিন এমন একটি ‘নোংরা’ ভিডিও তৈরি করেছিলেন যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-র মতো রাষ্ট্রনেতাকে নিয়েও আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল। কঙ্গনার বক্তব্য, একজন রাষ্ট্রনেতার প্রতি অন্তত সংবিধান ও গণতন্ত্রের মর্যাদা বজায় রাখা উচিত।

এরপর নাসিরুদ্দিনের সিনেমা ও সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ তুলে পাকিস্তান নিয়ে তাঁর অবস্থানকে আক্রমণ করেন কঙ্গনা। তাঁর অভিযোগ, নাসিরুদ্দিনের কথাবার্তায় পাকিস্তানের প্রতি বারবার ‘অগাধ প্রেম’-এর প্রকাশ ঘটে। দেশভাগের বহু বছর পরেও প্রতিবেশী দেশকে ঘিরে তাঁর এই মনোভাবের পরিবর্তন হয়নি বলেই দাবি করেন বিজেপি সাংসদ।

কঙ্গনার মন্তব্যের সঙ্গে সম্প্রতি নাসিরুদ্দিন অভিনীত একটি ছবির প্রসঙ্গও জুড়ে যাচ্ছে। ইমতিয়াজ আলি (Imtiaz Ali) পরিচালিত ‘ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’ ছবিতে দেশভাগ এবং ছিন্নমূল মানুষের যন্ত্রণার মতো বিষয় উঠে এসেছে। ফলে কঙ্গনা নাম না করে সেই ছবিকেও ইঙ্গিত করেছেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে।

তবে কঙ্গনা বা নাসিরুদ্দিন—দু’জনের বক্তব্যই তাঁদের নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানের অংশ। একজনের মন্তব্যের জবাবে অন্যজনের আক্রমণ ঘিরে বিতর্ক ক্রমশ ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক দুই মাত্রাই পাচ্ছে। নাসিরুদ্দিনের পক্ষ থেকে এই সর্বশেষ মন্তব্যের কোনও প্রত্যুত্তর এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত সামনে আসেনি।

ফলে নাসিরুদ্দিন শাহকে ঘিরে কঙ্গনার নতুন আক্রমণ বলিউডের পুরনো মতবিরোধকে আরও একবার প্রকাশ্যে নিয়ে এল। ঝাড়খণ্ডের আন্দোলন থেকে শুরু করে পাকিস্তান, দেশভাগ এবং রাষ্ট্রনেতাকে নিয়ে মন্তব্য—একাধিক প্রসঙ্গকে এক সুতোয় বেঁধে প্রবীণ অভিনেতাকে নিশানা করেছেন কঙ্গনা। এবার নাসিরুদ্দিন এই মন্তব্যের কী জবাব দেন, সেদিকেই নজর থাকবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন