অবসর নয়, অনির্দিষ্টকালের বিরতিও নয়, পিতৃশোকের মধ্যেই মাঠে ফিরলেন মেসি

বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর আবেগঘন পোস্টে ফুটবল থেকে দূরে থাকার জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেই আশঙ্কা উড়িয়ে ইন্টার মায়ামির হয়ে লিগ কাপের ম্যাচে মাঠে ফিরলেন লিওনেল মেসি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাবা হোর্হে মেসির (Jorge Messi) মৃত্যুর শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। তবু ফুটবল থেকে দূরে সরে থাকার বদলে মাঠকেই বেছে নিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বুধবার আমেরিকার লিগ কাপের ম্যাচে লিওনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্ত হিসাবে মাঠে নামেন মেসি। তাঁকে স্বাগত জানাতে স্টেডিয়ামজুড়ে উঠে দাঁড়ান সমর্থকরা। যদিও মেসির প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে ইন্টার মায়ামি (Inter Miami CF) ৩-২ গোলে হেরে যায়।

মেসির মাঠে ফেরার এই মুহূর্তে স্বস্তি ফিরেছে তাঁর ভক্তদের মধ্যেও। কারণ বাবার মৃত্যুর পর সামাজিক মাধ্যমে তাঁর দীর্ঘ আবেগঘন পোস্ট দেখে অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, ফুটবল থেকে হয়তো দীর্ঘ বিরতি নিতে পারেন তিনি। এমনকি পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানানোর সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই আশঙ্কা আপাতত দূর করে ফের বল পায়ে মাঠে নামলেন মেসি।

গত শনিবার প্রয়াত হন মেসির বাবা হোর্হে মেসি। বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। প্রিয় মানুষটিকে হারানোর পর গভীর শোকে ভেঙে পড়েন মেসি। তাঁর সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত লেখায় সেই যন্ত্রণারই প্রতিফলন দেখা যায়।

বাবাকে উদ্দেশ্য করে মেসি লিখেছিলেন, কেন আরও কিছুটা অপেক্ষা করলেন না তিনি। তাঁদের একসঙ্গে আরও অনেক কিছু করার এবং উপভোগ করার কথা ছিল। বাবার সঙ্গে শেষবারের মতো অনেক স্মৃতি ভাগ করে নিতে না পারার আক্ষেপও ফুটে ওঠে তাঁর লেখায়।

মেসির সেই পোস্টে বিশ্বকাপের প্রসঙ্গও উঠে আসে। বাবার শেষ দিনগুলিতে ২০২২ সালের বিশ্বকাপে তাঁকে দেখতে চেয়েছিলেন হোর্হে। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েক দিন আগে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। ফলে মেসির বিশ্বকাপজয়ের ঐতিহাসিক মুহূর্তটিও বাবার সামনে থেকে দেখা হয়ে ওঠেনি।

এই আবেগঘন বার্তার পরেই মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। অনেকের ধারণা ছিল, পিতৃশোক সামলাতে হয়তো দীর্ঘদিনের জন্য ফুটবল থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখবেন তিনি। কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছিলেন, এটাই কি তাঁর পেশাদার কেরিয়ারের শেষ অধ্যায়ের শুরু?

কিন্তু বাস্তবে সেই পথে হাঁটলেন না মেসি। বুধবার লিগ কাপের ম্যাচে ইন্টার মায়ামির জার্সি পরে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্ত হিসাবে যখন তাঁকে মাঠে নামানো হয়, তখন স্টেডিয়ামজুড়ে করতালির ঢেউ ওঠে। দাঁড়িয়ে মেসিকে অভিবাদন জানান সমর্থকরা।

সেই মুহূর্তটি ছিল শুধু একজন ফুটবলারের মাঠে প্রত্যাবর্তন নয়, বরং ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও নিজের পরিচিত জায়গায় ফিরে আসার এক আবেগঘন দৃশ্য। মেসিও সেই আবেগের মধ্যে মাঠে নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা করেন। আপাতত ফুটবলই যে তাঁর শোক সামলানোর অন্যতম আশ্রয় হয়ে উঠেছে, তাঁর সিদ্ধান্তে সেই ইঙ্গিতই মিলেছে।

তবে প্রত্যাবর্তনের রাতটি ফলাফলের দিক থেকে মেসিদের জন্য সুখের হয়নি। লিওনের বিরুদ্ধে ৩-২ গোলে পরাজিত হয়েছে ইন্টার মায়ামি। ফলে মেসি মাঠে ফিরলেও তাঁর ক্লাব জয় দিয়ে এই প্রত্যাবর্তন উদযাপন করতে পারেনি।

তবু ফলাফলের বাইরে মেসির মাঠে ফেরাটাই এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় খবর। বাবাকে হারানোর গভীর যন্ত্রণার মধ্যেও তিনি আপাতত ফুটবলকে বিদায় জানানোর কোনও ইঙ্গিত দেননি। বরং মাঠে ফিরে বুঝিয়ে দিলেন, কঠিন সময়েও ফুটবল তাঁর জীবনের কতটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ফলে মেসির অবসর কিংবা অনির্দিষ্টকালের বিরতি নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত অনেকটাই থেমেছে। ব্যক্তিগত শোক সামলে সামনে এগোনোর পথে মেসি আবারও বেছে নিয়েছেন সেই মাঠকেই, যেখানে বছরের পর বছর ধরে বিশ্বের কোটি কোটি সমর্থকের ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন