অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana)-র টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও একাধিক মাপকাঠি স্পষ্ট করে দিল রাজ্য সরকার। মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি ব্যক্তিগত আয় বা পরিবারের বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকার বেশি হলে এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া মহিলাদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম থাকবে। তবে দিব্যাঙ্গ ভাতা বা পিএম কিষান যোজনার সুবিধাভোগীরা অন্নপূর্ণার টাকা পেতে পারবেন।
অন্নপূর্ণা যোজনায় ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি যোগ্য মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রকল্পের সুবিধা যাতে শুধুমাত্র প্রকৃত যোগ্যদের কাছেই পৌঁছয়, সে জন্য শুরু থেকেই যাচাই প্রক্রিয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এবার সেই যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আয়, সম্পত্তি ও অন্যান্য সরকারি সুবিধার বিষয়গুলিও স্পষ্ট করে দেওয়া হল।
নতুন মাপকাঠি অনুযায়ী, কোনও মহিলার মাসিক উপার্জন ১০ হাজার টাকার বেশি হলে তিনি অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন না। একই ভাবে পরিবারের বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকার বেশি হলেও প্রকল্পের আওতায় আসা যাবে না। অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।
তবে সব সরকারি সুবিধাভোগীকেই অন্নপূর্ণা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, দিব্যাঙ্গ ভাতা বা পিএম কিষান যোজনার (PM-KISAN) আওতায় থাকা উপভোক্তারা অন্নপূর্ণার টাকা পেতে পারবেন। অর্থাৎ অন্য কোনও প্রকল্পের সুবিধা রয়েছে বলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য হয়ে যাবেন না। কোন ভাতা পাওয়া হচ্ছে, তার পরিমাণ এবং প্রকল্পের ধরনও বিবেচনা করা হবে।
গ্রামীণ মহিলাদের ক্ষেত্রে নিয়মে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। আগে বাড়িতে তিনটির বেশি ঘর থাকলে যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। এবার জানানো হয়েছে, গ্রামীণ এলাকায় কোনও মহিলার বাড়িতে তিনটির বেশি ঘর থাকলেও তিনি অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে পারেন। একই ভাবে জমির পরিমাণ ৫০ ডেসিমেলের বেশি হলেও শুধুমাত্র সেই কারণে তাঁকে প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হবে না।
বিধবা মহিলাদের জন্যও রয়েছে বিশেষ বিধান। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি বিধবারা নির্ধারিত যোগ্যতার মধ্যে থাকলে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন। তবে একই সঙ্গে অন্য সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া হচ্ছে কি না, সেই বিষয়টি যাচাই করা হবে।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে যাচাই প্রক্রিয়া আরও গুরুত্ব দিয়ে করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, আগের মাসে বেশ কিছু যোগ্য মহিলা টাকা না পাওয়ার অভিযোগ জানিয়েছিলেন। সেই বিষয়টি বিবেচনা করেই গ্রামীণ মহিলাদের ক্ষেত্রে ঘরের সংখ্যার মাপকাঠিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে আরও বেশি সংখ্যক যোগ্য মহিলা প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্নপূর্ণা যোজনা বিজেপির বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রকাশিত সংকল্পপত্রের অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল। ক্ষমতায় আসার পর ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। সরকারের দাবি, প্রকল্পের টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, জুন মাসে প্রায় ২৮ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পৌঁছেছিল। জুলাইয়ে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ কোটি ১৯ লক্ষ হয়েছে। চলতি অগস্টে উপভোক্তার সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন তিনি।
টাকা পাঠানোর সময়সূচিও স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যাঁদের ভেরিফিকেশন বা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে, তাঁদের অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে টাকা পৌঁছে যাবে। অর্থ দফতর জেলা ধরে ধরে অর্থ পাঠাবে। অগস্ট মাসের ১৭ তারিখ থেকেই যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করার কথা।
ফলে অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন বা সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু বয়সের শর্ত পূরণ করলেই হবে না। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আয়, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা, জমি এবং বসতবাড়ির মতো একাধিক বিষয় যাচাই করা হবে। সরকারের লক্ষ্য, প্রকল্পের টাকা যাতে প্রকৃত যোগ্য মহিলাদের কাছে পৌঁছয় এবং ভুয়ো বা অযোগ্য উপভোক্তাদের কারণে তালিকায় কোনও অনিয়ম না থাকে।



