দিল্লি বিস্ফোরণের নেপথ্যে আল কায়দার শাখা! ভারত-বাংলাদেশে জাল ছড়ানোর সতর্কবার্তা রাষ্ট্রসংঘের

লাল কেল্লার কাছে ২০২৫ সালের বিস্ফোরণের সঙ্গে আল কায়দার উপমহাদেশীয় শাখা AQIS-এর যোগের দাবি রাষ্ট্রসংঘের নতুন রিপোর্টে। ভারত-বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানে নেটওয়ার্ক বিস্তার নিয়েও সতর্কতা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

লাল কেল্লার কাছে ২০২৫ সালের দিল্লি বিস্ফোরণের নেপথ্যে আল কায়দার উপমহাদেশীয় শাখা ‘আল-কায়দা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ বা AQIS-এর যোগ রয়েছে বলে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নতুন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় সংগঠনটির কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানে ছোট ছোট সেল, লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক তৈরির প্রবণতা নিয়ে সতর্ক করেছে রাষ্ট্রসংঘের পর্যবেক্ষক দল।

রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (UN Security Council) Analytical Support and Sanctions Monitoring Team-এর ৩৮তম রিপোর্টে দিল্লির হামলার সঙ্গে AQIS-এর যোগের কথা উঠে এসেছে। এর আগে ভারতীয় তদন্তকারীদের তরফেও হামলার সঙ্গে আল কায়দার উপমহাদেশীয় শাখার যোগাযোগের কথা সামনে আনা হয়েছিল। নতুন রিপোর্ট সেই দাবিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও গুরুত্ব দিয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বড় কোনও জঙ্গি ইউনিট গড়ে তোলার বদলে AQIS ছোট ছোট ‘সেল’ তৈরি করে নিজেদের কার্যকলাপ ছড়ানোর কৌশল নিচ্ছে। এই সেলগুলির সঙ্গে লজিস্টিক ও আর্থিক সহায়তার নেটওয়ার্কও যুক্ত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে রাষ্ট্রসংঘের পর্যবেক্ষক দল। আফগানিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশের মাটিতেও সংগঠনটির নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

গত বছরের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় দিল্লির লাল কেল্লার কাছে একটি গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের জেরে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায় এবং বহু মানুষ হতাহত হন। হামলার তদন্তে পরে ফরিদাবাদে সক্রিয় একটি কথিত ‘চিকিৎসক মডিউল’-এর তথ্য সামনে আসে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি এই মডিউলের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখে।

তদন্তের সূত্র ধরে উমর উন নবী নামে এক চিকিৎসকের নামও সামনে আসে। বিভিন্ন তদন্তকারী তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়ির সঙ্গে তাঁর যোগ ছিল এবং তাঁকেই হামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করে।

রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে শুধু দিল্লির বিস্ফোরণ নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গি সংগঠনগুলির কৌশলগত পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বড় আকারের সংগঠিত কাঠামোর বদলে ছোট সেল তৈরি করে কাজ চালানোর প্রবণতা নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সীমান্ত পেরিয়ে যোগাযোগ এবং অর্থ ও রসদ জোগানের নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও নজরে রাখা হচ্ছে।

এদিকে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও রিপোর্টে সতর্কবার্তা রয়েছে। জঙ্গি সংগঠনগুলি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-নির্ভর বিভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে বলে পর্যবেক্ষক দলের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ, প্রচার এবং অন্যান্য সহায়ক কাজে AI ব্যবহারের প্রবণতা নিয়ে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

তবে এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম বা প্রযুক্তি নিয়ে যে সমস্ত দাবি বিভিন্ন প্রতিবেদনে ছড়িয়েছে, সেগুলির প্রতিটি অংশ স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি। রাষ্ট্রসংঘের পর্যবেক্ষক দলের মূল উদ্বেগ হল, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলি কীভাবে নতুন প্রযুক্তিকে নিজেদের কার্যকলাপের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।

রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ কমিটি ও তার সঙ্গে যুক্ত Monitoring Team আল কায়দা এবং সংশ্লিষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলির কার্যকলাপ, অর্থায়ন ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে। এই কাঠামোর অধীনেই সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।

দিল্লির বিস্ফোরণকে ঘিরে তদন্ত এখনও সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়নি। তাই রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে AQIS-এর যোগের উল্লেখ গুরুত্বপূর্ণ হলেও মামলার প্রতিটি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালত ও তদন্তের পরবর্তী পর্যায়েই নির্ধারিত হবে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই পর্যবেক্ষণ দক্ষিণ এশিয়ায় আল কায়দা-ঘনিষ্ঠ নেটওয়ার্কের গতিবিধি নিয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের তদন্তে আল কায়দার উপমহাদেশীয় শাখার যোগের দাবি এখন আন্তর্জাতিক রিপোর্টেও উঠে এসেছে। একই সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলিতে ছোট সেল ও সহায়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রবণতা নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের সতর্কতা নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজর আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন