লস্কর-ই-তইবার (Lashkar-e-Taiba) নেতাদের সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভারতকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল পাকিস্তানের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমেদের (Sheikh Rasheed Ahmed) বিরুদ্ধে। একটি সমাবেশের ভিডিওতে তাঁকে লস্করের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা গিয়েছে। সেখানেই লস্কর প্রধান হাফিজ সইদের (Hafiz Saeed) প্রশংসা করে ভারত সম্পর্কে উসকানিমূলক মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের দিকে ভারত ‘চোখ তুলে তাকালে’ ভারতে আর পাখি ডাকবে না, কোনও মন্দিরে ঘণ্টাও বাজবে না। ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি লস্কর-ঘনিষ্ঠ একটি সমাবেশে হাজির হয়েছিলেন রশিদ। সেখানে তাঁর সঙ্গে একই মঞ্চে ছিলেন খালিদ মাসুদ সান্ধু, যাঁকে লস্করের শীর্ষ কমান্ডার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সান্ধু ‘পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগ’-এরও সভাপতি। ওই মঞ্চে ক্বারি মহম্মদ ইয়াকুব শেখকেও দেখা যায়, যাঁকে লস্করের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রশিদ হাফিজ সইদের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি নিজেকে সইদের ‘গোলাম’ বলেও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি পাকিস্তানের স্বার্থের পক্ষে থাকার কথা ঘোষণা করেন। এই বক্তব্যের কারণেই প্রাক্তন মন্ত্রীর সঙ্গে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের নেতৃত্বের সম্পর্ক নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে।
এর পরেই ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকির সুর শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে। রশিদের দাবি, ভারত পাকিস্তানের দিকে তাকালে ‘আল্লাহ ভারতকে ধ্বংস করে দেবেন’। এরপরই তিনি বলেন, ভারতে কোনও পাখি ডাকবে না এবং কোনও মন্দিরে ঘণ্টা বাজবে না। তাঁর এই বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরেই তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
রশিদের বক্তব্যের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, তিনি একইসঙ্গে পাকিস্তান এবং হাফিজ সইদের প্রতি নিজের সমর্থন প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ বক্তব্যের মঞ্চে শুধু ভারত-বিরোধী মন্তব্যই নয়, লস্কর নেতৃত্বের প্রশংসাও করেছেন তিনি। এই কারণেই ঘটনাটি কেবল রাজনৈতিক বক্তৃতা হিসেবে নয়, জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে প্রকাশ্য যোগাযোগের অভিযোগের দিক থেকেও গুরুত্ব পাচ্ছে।
লস্কর-ই-তইবা একটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন এবং আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদ ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নজরে রয়েছেন। সইদকে পাকিস্তানে সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের মামলায় কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
শেখ রশিদ আহমেদ পাকিস্তানের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। ইমরান খানের (Imran Khan) সরকারের আমলে ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। তিনি আওয়ামি মুসলিম লিগের প্রতিষ্ঠাতাও। ফলে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে লস্কর-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যাওয়ার ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে সমাবেশটির সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং ভাইরাল ভিডিওর স্বাধীন সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি আলাদা করে গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলিতে ভিডিওটির বক্তব্য উদ্ধৃত করে খবর করা হয়েছে। তাই ভিডিওর প্রতিটি দাবি বা সমাবেশের পূর্ণ প্রেক্ষাপট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
ঘটনাটি এমন সময় সামনে এসেছে, যখন ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনও স্পর্শকাতর বিষয়। তার মধ্যেই প্রাক্তন পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে মন্দিরের ঘণ্টা বন্ধ করে দেওয়ার মতো হুমকি এবং হাফিজ সইদের প্রকাশ্য প্রশংসা নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, লস্কর-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে শেখ রশিদ আহমেদের একই মঞ্চে উপস্থিতি এবং সেখান থেকে ভারতের বিরুদ্ধে দেওয়া তাঁর বক্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হাফিজ সইদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন এবং ভারতের মন্দির নিয়ে তাঁর মন্তব্যই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।



