নজরবন্দি ব্যুরোঃ ইস্তফার হুমকি দিলেন বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁ! দুর্গাপুজোর মহাসপ্তমীর দিন হঠাৎ করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বিজেপি যুব মোর্চার সমস্ত জেলা কমিটি বাতিল ঘোষণা করেন। দিলীপ ঘোষের কথায়, অনিবার্য কারণবশত জেলা বিজেপির যুব মোর্চার সমস্ত পদ ও কমিটি বাতিল করে দেওয়া হলো।তিনি আরও বলেন, নতুন করে যুব মোর্চা জেলা কমিটি এবং সভাপতি নির্বাচন হবে এবং যতদিন না পর্যন্ত সেই কাজ সম্পন্ন হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত বিজেপির জেলা সভাপতিরাই দায়িত্ব সামলাবেন।
আরও পড়ুনঃ মহা সপ্তমীর দিনে রেকর্ড পরিমানে সংক্রমণ রাজ্যে।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা গোটা বিষয়টিতে বিজেপির দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এলো যা পরবর্তীকালে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। আর সেই সমস্যাই স্মৃষ্টি হল এবার। নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে নিজের অবস্থানের কথা ব্যাক্ত করেছেন সৌমিত্র। তিনি বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের সিদ্ধান্তে চরম ক্ষুব্ধ। সৌমিত্র খাঁ জানিয়েছেন তিনি নিজের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিতে চান। দুর্গাপূজার পরে অফিসিয়ালি ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেবেন শীর্ষ নেতৃত্ব কে! সূত্রের খবর, ২১ নির্বাচনের প্রাক্কালে এহেন সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। খুব দ্রুত সৌমিত্র কে দিল্লিতে বিজেপি-র সদর দফতরে তলব করা হবে।
অভাব অভিযোগ শোনা হবে তার। রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, সৌমিত্র হয়ত পদ বা দল কোনটাই ছাড়বেন না কিন্তু, পরবর্তীকালে বিজেপি রাজ্য সভাপতির সাথে একসাথে কাজ করা যে সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে এটা তারই ঝলক। গেরুয়া শীর্ষ নেতৃত্ব বাংলার ‘২১ নির্বাচনে মুকুল রায়ের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে। আর সৌমিত্র মুকুল রায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তা বলাই বাহুল্য। তাই মুকুল বিজেপি সর্বভারতীয় সহ সভাপতি হলেও বিজেপি রাজ্য সভাপতির সাথে যে ঠান্ডা লড়াই এখনও চলছে তা আরও একবার প্রমানিত হল। এখন দেখার সৌমিত্র আদৌ দল বা পদ ছাড়েন না এটাও দিলীপের ওপর চাপ বাড়ানোর জন্যে কোন নয়া ‘চানক্য নিতী!’প্রসঙ্গত, বিজেপির আসল লক্ষ্য আগামী বছরের নির্বাচন এবং সেই কথা মাথায় রেখেই দলের সংগঠন ঢেলে সাজানো হচ্ছে।
সেইমতো বিজেপি যুব মোর্চা জেলা কমিটি গুলিতেও রদবদল করা হয়। বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি নির্বাচিত হন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। এর পরই তিনি নিজ উদ্যোগে জেলায় জেলায় বিজেপি যুব মোর্চার সংগঠন মজবুত করার উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করেন এবং পরবর্তীকালে ২৯ জন জেলা যুব মোর্চা সভাপতির নাম ঘোষণা করে দেন। উল্লেখ্য, অনেক আগেই জেলায় যুব মোর্চার সভাপতি বাছাই করা নিয়ে মতানৈক্য চলছিল তারপরে সৌমিত্র খাঁ মোর্চার জেলা সভাপতিদের নাম ঘোষণা করে দেওয়ায় দলের মধ্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
বিশেষ করে রাজ্য সভাপতি দিলীপ বাবুর সঙ্গেই মতানৈক্য তৈরি হয় সৌমিত্র খাঁর। সেই সময়ই অনেক গুলি নাম বাতিল করে দেন দিলীপ ঘোষ। আর এবার গতকাল সপ্তমীর দিনে দলের যুব মোর্চার সেই নতুন গঠিত জেলা কমিটি গুলির পুরোপুরি বাতিল করে দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি।



