নজরবন্দি ব্যুরোঃ বাংলাদেশি যোগের খবর পেয়েছেন সৌমিত্র আর সেই কারণেই এবার নিউতাউন কান্ডের তদন্তের ভার NIAএর হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে কেন্দ্রিয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তাঁর মতে ব্যাক্তিগত ভাবে তিনি জানতে পেরেছেন গতকালের এনকাউন্টারের ঘটনায় দুই দুষ্কৃতি যে ফ্ল্যাটে থাকতেন তাঁদের মালিক বাংলাদেশি।
আরও পড়ুনঃ নিউটাউন এনকাউন্টারে নয়া মোড়, উঠছে দুষ্কৃতিদের পাকিস্তান যোগের ইঙ্গিত

একদিকে যখন ঘটনার তদন্তে উঠে আসছে পাকিস্তানি যোগ, তখন বিজেপি সাংসদের বাংলাদেশি সূত্র শুরু করেছে নতুন জল্পনা। গতকাল দিনেদুপুরে শ্যুটআউট হয়েছে নিউটাউনের সাপুরজিতে, এসটিএফের সাথে গুলির লড়াইয়ে নিহত হয়েছিলেন দুই দুষ্কৃতী। নিউ টাউনের অভিজাত সাপুরজি আবাসন দিনেদুপুরে সাক্ষী থেকেছে গুলির লড়াইয়ের। সকলেই এক বাক্যে স্বীকার করেছেন কালকের ঘটনা কোন ভাবেই কোন থ্রিলারের থেকে কম যায়নি। একেবারের রিল পর্দা থেকে রিয়েল ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন এলাকার মানুষ। তবে গত এক দিনে ঘন্টায় ঘন্টায় মোড় বদলেছে ঘটনার।
গতকাল পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে প্রাণ যায় পাঞ্জাব থেকে আগত দুই দুষ্কৃতী জয়পাল ভুল্লার এবং যশপ্রীত সিংহ। পাঞ্জাবের দুই কুখ্যাত দুষ্কৃতী মাদক এবং অস্ত্র পাচারোর মতো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু কি করে ওই আবাসনে তারা গা ঢাকা দিল সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও খুঁজছে পুলিশ। ঘটনায় আহত হয়েছেন রাজ্য পুলিশের এসটিএফ-এর একজন অফিসার৷ আপাতত স্থিতিশীল তিনি। কলকাতা পুলিশের কাছে সূত্র মারফত খবর আসে পঞ্জাবের মোস্ট ওয়ান্টেড দুই দুষ্কৃতী কয়েকদিন ধরেই সাপুরজি এলাকার একটি আবাসনে এসে গা ঢাকা দিয়েছে। তার পরেই তল্লাশি এবং এনকাউন্টার।
নিউটাউন এনকাউন্টারে নয়া মোড়, প্রায় ১৫ মিনিট ধরে ৪০ রাউন্ড গুলি চলে। দুই কুখ্যাত গ্যাংস্টার ঘটনাস্থলেই নিহত হলেও ঘটনার পরতে পরতে উঠে আসছে রহস্য। একদিকে দিন ভর তল্লাশি চলেছে ফ্ল্যাটের আসল মালিককে নিয়ে। মালিক, ব্রোকার সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, অন্যদিকে দুষ্কৃতিদের আশ্রিত ফ্ল্যাটে পাওয়া গেছে উর্দু ভাষায় পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের ঠিকানা যুক্ত জামাকাপড়ের প্যাকেট। পাওয়া গিয়েছে পাঞ্জাবের একাধিক জায়গা এবং দকানের নামও যার ফলে শুরু হয়েছে তাঁদের পাকিস্তান যোগের ঘটনা।


বাংলাদেশি যোগের খবর পেয়েছেন সৌমিত্র! ইতিমধ্যেই সে কথা জানিয়ে সম্পুর্ন তদন্তের জন্য আমিত শাহ কে চিঠি দিয়েছেন তদন্ত ভার NIA এর হাতে দিতে। যদিও আজ সকাল থেকেই ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে দফায় দফায় তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে ফ্ল্যাটের মালিকের নাম সাবির আলি, কিছুক্ষণ পরেই ব্রোকার মাধ্যম জানা যায় ফ্ল্যাটের মালিক কলকাতার আনন্দ পালিত রোডের বাসিন্দা আকবর আলির। ঘটনায় তদন্ত চলছে এখনো। এর আগেও রাজ্যের একাধিক ঘটনার তল্লাশিতে NIA এর ভূমিকা লক্ষ্য করা গিয়েছে। এখন দেখার বিজেপি সাংসদের ব্যাক্তিগত নেটওয়ার্কের খবরকে মান্যতা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক কী সিদ্ধান্ত নেয়।






