সিকিমের নামচি জেলা (Namchi)-য় নির্মীয়মাণ একটি সুড়ঙ্গে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত সাত শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ধসের পর সুড়ঙ্গের ভিতরে মিথেন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, এখনও বহু শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে রয়েছেন। পুলিশ, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (National Disaster Response Force – NDRF), দমকল ও প্রশাসনের যৌথ বাহিনী রাতভর উদ্ধারকাজ চালালেও পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলে এনএইচপিসি (NHPC)-র তিস্তা স্টেজ-৬ প্রকল্পের অন্তর্গত সামারদুং টানেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নির্মাণকাজ চলাকালীন আচমকা সুড়ঙ্গের একটি অংশ ধসে পড়ে। ধসের জেরে ভিতরে থাকা শ্রমিকরা বেরিয়ে আসার আগেই প্রবেশপথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ মিথেন গ্যাস বেরিয়ে আসতে শুরু করায় উদ্ধারকাজ আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল সাতটি দেহ উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি ১৬ জন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, এখনও অন্তত ২৭ জন শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকতে পারেন। তাঁদের সঙ্গে এখনও পর্যন্ত সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধারকর্মীদের দাবি, সুড়ঙ্গের প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশে মিথেন গ্যাস জমে রয়েছে। সেই কারণে উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের বিশেষ সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হচ্ছে। গ্যাসের প্রভাবে বেশ কয়েকজন উদ্ধারকর্মীও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। ফলে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং মানবশক্তি—দুই ক্ষেত্রেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, টানা বর্ষণের জেরে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বিপুল পরিমাণ পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরাতে একাধিক এক্সকাভেটর ও ভারী যন্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। তবে নতুন করে ধস নামার আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান ধাপে ধাপে এগোচ্ছে।
উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি জানিয়েছে, সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রবেশের আগে বাতাসের গুণমান এবং গ্যাসের মাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিরাপদ বলে নিশ্চিত হওয়ার পরই উদ্ধারকারী দলকে ভিতরে পাঠানো হচ্ছে। কারণ, মিথেন গ্যাসের উপস্থিতিতে সামান্য অসাবধানতাও বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
ঘটনাস্থলে একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স, চিকিৎসক দল এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
প্রশাসনের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল, সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের নিরাপদে উদ্ধার করা। তবে প্রবল বৃষ্টি, ধসের আশঙ্কা এবং মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি উদ্ধারকাজকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে। পরিস্থিতির উপর নজর রেখে প্রয়োজনে অতিরিক্ত উদ্ধারকারী দল ও সরঞ্জাম পাঠানোর প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।



