দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে এবার সরব হলেন গায়ক-অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ (Diljit Dosanjh)। শিক্ষাব্যবস্থা ও পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে চলা সিজেপি (CJP)-র আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “জনগণের কণ্ঠস্বরই ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর।” কৃষক আন্দোলনের সময় তাঁকে ‘দেশদ্রোহী’ বলা হয়েছিল উল্লেখ করে দিলজিৎ কটাক্ষের সুরে বলেন, “প্রয়োজনে এবারও আমাকে সেই তকমাই দেওয়া হোক।”
উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগেও একই আন্দোলন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে দিলজিৎ বলেছিলেন, তিনি একজন শিল্পী, রাজনৈতিক নেতা নন এবং তাঁকে এই ধরনের বিতর্কের বাইরে রাখা হোক। সেই মন্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। বিশেষ করে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনাও তৈরি হয়।
তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পর দিলজিৎ প্রকাশ্যে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করা হয়েছে, তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের উচিত তাঁদের দাবিগুলি মন দিয়ে শোনা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা।
দিলজিৎ বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাঁর কথায়, “জনগণের কণ্ঠস্বরই ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর।” তাই আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বক্তব্য উপেক্ষা না করে তাঁদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এই প্রসঙ্গে তিনি অতীতের কৃষক আন্দোলনের কথাও স্মরণ করেন। দিলজিতের দাবি, সেই সময় আন্দোলনের সমর্থনে মুখ খোলায় তাঁকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে আক্রমণ করা হয়েছিল এবং নানা আইনি ও সামাজিক চাপে পড়তে হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, এবারও একই ধরনের সমালোচনা হলে তিনি অবাক হবেন না।
গায়ক-অভিনেতা আরও বলেন, অতীতের বহু ঘটনা নিয়ে তিনি এখন বিস্তারিত আলোচনা করতে চান না। তবে তাঁর বিশ্বাস, সত্য শেষ পর্যন্ত সামনে আসে এবং ঈশ্বর সবকিছু দেখছেন। তাই তিনি সকলের মঙ্গল কামনা করেন বলেও জানান।
প্রসঙ্গত, শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে চলা আন্দোলনকে ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, পরীক্ষা পদ্ধতির স্বচ্ছতা, প্রশ্নফাঁস রোধ এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। অন্যদিকে প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এই আবহেই দিলজিৎ দোসাঞ্জের মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।




