লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে জবাব দেওয়ার জন্য ফের সময় চেয়েছেন কাকলি ঘোষদস্তিদার-সহ ২০ জন সাংসদ। তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হওয়ার পর তাঁদের এনসিপিআই-তে যোগদান সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সাংসদ পদ খারিজের দাবি উঠেছে। সেই বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়সীমার মধ্যেও জবাব জমা পড়েনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ফলে ফের সময় চাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। এই নিয়ে চতুর্থবার সময় চাওয়া হল বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর লোকসভার স্পিকারের দফতর থেকে ৮ অক্টোবরের মধ্যে জবাব দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের তরফে সময় বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়।
৮ অক্টোবর স্পিকারের দফতরে ই-মেল পাঠিয়ে আরও সময় চাওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তার পরেও ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর ফের আবেদন জানানো হয়েছে।
নতুন আবেদনে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে বলে খবর। তবে স্পিকারের দফতর এই আবেদন মঞ্জুর করেছে কি না, তা দেওয়া তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
এই বিতর্কের সূত্র তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচিত ২০ জন সাংসদের দলবদল সংক্রান্ত অভিযোগ। তাঁদের প্রত্যেকের সাংসদ পদ খারিজের দাবি জানিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পৃথক ২০টি চিঠি দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এই দাবিকে কেন্দ্র করেই আইনি পদক্ষেপ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও মামলা হয়েছে। ফলে স্পিকারের দফতরে জবাব দেওয়ার সময়সীমা এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।
তবে সাংসদ পদ খারিজের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা প্রদত্ত তথ্য থেকে স্পষ্ট নয়। অভিযোগ, আবেদন এবং চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত—এই তিনটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট সাংসদদের এক মাসের মধ্যে জবাব দেওয়ার সময় দিয়েছে। অন্যদিকে, লোকসভার স্পিকারের জন্য নির্দিষ্ট কোনও চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ রয়েছে।
তবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ গোটা বিষয়টিতে স্পিকারের পদক্ষেপ আদালতের নজরদারিতে থাকবে বলে জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এখন নজর রয়েছে ৩ নভেম্বরের আবেদনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। স্পিকারের দফতর নতুন সময়সীমা মঞ্জুর করে কি না, সংশ্লিষ্ট সাংসদরা কবে জবাব জমা দেন এবং মামলায় আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণ কী হয়—তার উপরই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে।




