২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক সমাবেশে ফের তীব্র চর্চার কেন্দ্রে মদন মিত্র (Madan Mitra)। মেয়ো রোড (Mayo Road)-এ ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের কর্মসূচি থেকে তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-কে উদ্দেশ্য করে দলীয় অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মমতার জন্য তাঁদের দরজা এখনও খোলা রয়েছে এবং তাঁকে এক মাস সময় দেওয়া হচ্ছে। বক্তব্যের একাধিক অংশে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-কেও কটাক্ষ করেন।
সম্প্রতি ঋতব্রতপন্থী শিবিরে যোগ দেওয়ার পর এদিন প্রথমবার ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে বক্তব্য রাখেন কামারহাটির বিধায়ক। ভাষণের শুরু থেকেই তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের প্রকৃত শক্তি এসেছে দলের তৃণমূল স্তরের কর্মীদের হাত ধরে। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দলের ইতিহাস এবং সংগঠনের ভিত্তিকে স্মরণ করে মমতার নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
মদন মিত্র তাঁর বক্তব্যে বলেন, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন এবং সেই জন্য এক মাস সময় দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, দলের কর্মীদের প্রতি আস্থা রেখে পুরনো অবস্থানে ফিরে এলে তাঁকে স্বাগত জানানো হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, দল নিয়ে অতীতের কিছু সিদ্ধান্ত ভুল ছিল—এমন স্বীকারোক্তি এলেই নতুন করে আলোচনার পথ খুলতে পারে।
শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এদিন আক্রমণ করেন মদন মিত্র। তাঁর বক্তব্যে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার প্রসঙ্গ উঠে আসে। তিনি অভিযোগ করেন, দলীয় অর্থ ও সংগঠনকে কেন্দ্র করে বহু প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া এদিন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
প্রসঙ্গত, বিধানসভায় গিয়ে ঋতব্রতপন্থী শিবিরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মদন মিত্রের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছিল। ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে তাঁর এই বক্তব্য সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিল।
এদিকে এ বছরের ২১ জুলাই রাজ্যে তিনটি পৃথক রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। একদিকে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সমাবেশ, অন্যদিকে মেয়ো রোডে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের কর্মসূচি এবং শহিদ মিনার চত্বরে প্রদেশ কংগ্রেসের অনুষ্ঠান—এই তিন মঞ্চ থেকেই পাল্টা রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মদন মিত্রের সাম্প্রতিক মন্তব্যও সেই রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করল।



