২১ জুলাইয়ের সভায় যাওয়ার আগেই গ্রেপ্তার প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার, কেন?

২১ জুলাইয়ের সমাবেশে যাওয়ার আগে প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদারকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। তোলাবাজির মামলায় পদক্ষেপের দাবি পুলিশের, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ অনুগামীদের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক আবহে ফের চর্চার কেন্দ্রে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার (Asit Majumdar)। মঙ্গলবার সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-র শিবিরের শহিদ দিবসের সমাবেশে যোগ দিতে রওনা হওয়ার আগেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রের দাবি, তোলাবাজির একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ তুলেছে তাঁর ঘনিষ্ঠ ও দলীয় সমর্থকদের একাংশ।

পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অসিত মজুমদার সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “সবই আমার ভাগ্যের দোষ।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

এটি এই প্রথম নয়। এর আগে গত ৩১ মে পুলিশি কাজে বাধা, তোলাবাজি এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে প্রায় ১৯ দিন জেল হেফাজতে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের গ্রেপ্তার হওয়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেল।

অসিত মজুমদারের ঘনিষ্ঠদের দাবি, মঙ্গলবার সকালে তিনি কলকাতায় ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে যোগ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই সময় চুঁচুড়া থানা (Chinsurah Police Station)-র একটি দল তাঁর বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে থানায় নিয়ে যায়। প্রথমে তাঁকে কেন ডাকা হয়েছে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয় বলে দাবি তাঁদের।

প্রাক্তন বিধায়কের অনুগামীদের বক্তব্য, পুলিশ প্রথমে জানায় যে একটি প্রতারণা মামলায় ধৃত এক অভিযুক্তকে শনাক্ত করার জন্য অসিত মজুমদারকে থানায় ডাকা হয়েছে। অভিযোগ ছিল, ওই ব্যক্তি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পরিচয় দিয়ে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পরে তোলাবাজির মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা যায়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ তুলেছেন যুব তৃণমূল নেতা পবিত্র মিস্ত্রি (Pabitra Mistry)। তাঁর দাবি, অসিত মজুমদারের নেতৃত্বে কর্মী-সমর্থকদের একটি বড় অংশ ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে যাওয়ার কথা ছিল। সেই কর্মসূচি ব্যাহত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই স্পষ্ট হয়েছে, প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত এখনও চলছে। অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে এখনও প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশের উপরই নির্ভর করবে মামলার ভবিষ্যৎ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন