দীর্ঘ ১৬ বছর বিদেশে থাকার পর ভারতে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন আইপিএল (IPL)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান ললিত মোদি (Lalit Modi)। ২০০৯ সালের আইপিএল দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়োজন সংক্রান্ত ফেমা (FEMA) মামলায় বড় আইনি স্বস্তি পাওয়ার পর তিনি বলেন, “আমি কোনও ভুল করিনি। এত বছর ধরে যা বলে এসেছি, শেষ পর্যন্ত সেটাই সত্যি প্রমাণিত হয়েছে।” আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর চলতি বছরের শেষ বা আগামী বছরের শুরুতে ভারতে ফেরার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
২০০৯ সালে সাধারণ নির্বাচনের কারণে আইপিএল ভারত থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় বিদেশে প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ পাঠানো হয়। পরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) অভিযোগ তোলে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)-এর পক্ষ থেকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) পূর্বানুমতি ছাড়াই প্রায় ২৪৩.৪৫ কোটি টাকা বিদেশে পাঠানো হয়েছিল, যা ফেমা আইনের লঙ্ঘন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৮ সালে ললিত মোদি-সহ একাধিক প্রাক্তন বোর্ড কর্তার বিরুদ্ধে জরিমানা ও শাস্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে সম্প্রতি SAFEMA Appellate Tribunal ইডির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ খারিজ করে দেয়। ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিদেশি অর্থপ্রেরণ ছিল Current Account Transaction, তাই এ ক্ষেত্রে ইডির মূল যুক্তি টেকেনি। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল জানায়, BCCI-র ফেমা সংক্রান্ত আইনগত দায়ভার ললিত মোদির ব্যক্তিগত দায়িত্ব ছিল— এমন দাবিও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে আরোপিত অধিকাংশ জরিমানা ও সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে।
রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় ললিত মোদি বলেন, “১৬ বছর ধরে আমি একই কথা বলে এসেছি। ভারতীয় ক্রিকেট এবং আইপিএলের স্বার্থেই কাজ করেছি। কোনও ব্যক্তিগত অন্যায় করিনি। সময়ই সবচেয়ে বড় বিচারক, আর আজ সেই বিচার সম্পূর্ণ হল।” তাঁর দাবি, এই রায় শুধু ব্যক্তিগত স্বস্তি নয়, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়েরও সমাপ্তি ঘটিয়েছে।
দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। ললিত মোদির কথায়, “চলতি বছরের শেষের দিকে বা আগামী বছরের শুরুতে ভারতে ফিরতে চাই। অক্টোবর মাসে আমার নাতি জন্মাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে তারপরই দেশে ফিরব।”
প্রসঙ্গত, ললিত মোদিকে আইপিএলের রূপকার হিসেবে ক্রিকেট বিশ্বের বড় অংশ কৃতিত্ব দেয়। তাঁর হাত ধরেই বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগের সূচনা হয়েছিল। ‘মার্ডার ২’, ‘আশিকী ২’ বা অন্য কোনও সাংস্কৃতিক প্রসঙ্গ নয়, বরং আইপিএলকে বিশ্বমানের ব্র্যান্ডে পরিণত করাই তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান বলে বহু ক্রিকেট বিশ্লেষকের মত।
যদিও এই ট্রাইব্যুনালের রায় ২০০৯ সালের আইপিএল-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট ফেমা মামলার ক্ষেত্রে বড় স্বস্তি দিয়েছে, তবে অতীতে ললিত মোদিকে ঘিরে অন্যান্য আইনি বিতর্কও ছিল। ফলে দেশে ফেরার পর তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনও বিচারাধীন বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার প্রভাব পড়বে কি না, তা পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।



