কলকাতা: ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে জনসমাগমকে সামনে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক রাজনৈতিক লড়াইয়ের ডাক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বিড়লা তারামণ্ডল (Birla Planetarium) সংলগ্ন সভামঞ্চ থেকে তিনি ঘোষণা করেন, “আজ থেকেই নতুন লড়াই শুরু হল। আজ থেকেই রাস্তায় নামা শুরু।” পাশাপাশি তাঁর দাবি, বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি বদলাতে বিজেপিকে রাজ্য ও দেশ—দুই জায়গা থেকেই সরাতে হবে।
সভামঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, “আমাকে যতই আটকানোর চেষ্টা করা হোক, থামানো যাবে না। আজ থেকে আমি জেলায় জেলায় বেরোব। রাস্তায় নেমে মানুষের লড়াই লড়ব।” তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলার পরিবর্তে ভয় ও সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “বাংলায় এখন লুম্পেনদের সরকার চলছে। মানুষকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।” একই সঙ্গে তিনি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দেন, “সাহস থাকলে আমার সঙ্গে থাকুন। না হলে বিজেপির স্পনসরড দলের সঙ্গে থাকার বদলে সরাসরি বিজেপিতে চলে যান।”
নিজের বয়স প্রসঙ্গও টেনে আনেন মমতা। তিনি বলেন, “আমি এখনও যতটা এক্সারসাইজ করি, ওরা আমার সঙ্গে পারবে না।” বয়সকে উপেক্ষা করেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি জানান, আগামী দিনে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় মানুষের কাছে পৌঁছবেন।
দলের সাংগঠনিক শক্তির প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, “একসময় আমাদের মাত্র দু’জন সাংসদ ছিল। আজ সেই সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তাই হতাশার কোনও কারণ নেই। ফসল কাটা এখনও শেষ হয়নি।” বক্তব্যের শেষে তিনি “আসল তৃণমূল কংগ্রেস জিন্দাবাদ” স্লোগান তোলেন এবং “খেলা হবে” ধ্বনি দিয়ে ভাষণ শেষ করেন।
এদিন ছাত্র-যুব আন্দোলনের প্রসঙ্গও তোলেন তৃণমূল নেত্রী। বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে তিনি জানান, প্রয়োজনে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janata Party)-র আন্দোলনেও সংহতি জানাতে তিনি নিজে উপস্থিত হবেন।
রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রথম ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে উল্লেখযোগ্য জনসমাগমের আবহে মমতার এই আক্রমণাত্মক ভাষণ নতুন রাজনৈতিক লড়াইয়ের সূচনা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। জনসমুদ্রকে সামনে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের রূপরেখাও স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূল নেত্রী।



