চোরগুলো বিজেপিতে গেছে, আর ফেরত নেব না! ভিড়ে ঠাসা সভায় ‘দিদি’ বোঝালেন মমতা আছেন মমতাতেই!

বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের আর দলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে না বলে জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি দলের প্রতীক রক্ষায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাওয়ার ঘোষণা এবং বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুললেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতা: ২১ জুলাইয়ের সভামঞ্চ থেকে একযোগে বিদ্রোহী শিবির, বিজেপি এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)বিড়লা তারামণ্ডল (Birla Planetarium) সংলগ্ন সমাবেশ থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রাক্তন তৃণমূল নেতাদের আর দলে ফেরানো হবে না। একই সঙ্গে দলের নির্বাচনী প্রতীক রক্ষায় প্রয়োজন হলে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India) পর্যন্ত লড়াই করার বার্তাও দেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতেই বিদ্রোহী শিবিরকে কড়া বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, “বিজেপিতে যান, যত বেশি যাবেন আমি তত খুশি হব। যে জায়গা খালি হবে, সেখানে আমার ছাত্র-যুবরা দায়িত্ব নেবে।” এরপরই তিনি দাবি করেন, “চোরগুলো বিজেপিতে চলে গেছে। ওদের আর কখনও দলে ফেরত নেব না। গত রাতের অপারেশনে কারা ছিল, প্রত্যেকের নাম আমার জানা আছে।”

দলের নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে চলা আইনি লড়াই প্রসঙ্গেও সরব হন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “প্রতীক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু আমরা তা হতে দেব না। প্রয়োজন হলে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাব। আমাদের প্রতীক কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।” তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক শক্তির জোরে বিরোধীদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করে মমতা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ডিএ, হকার উচ্ছেদ-সহ একাধিক ইস্যু তুলে ধরেন। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র নাম না করেই কটাক্ষ করে বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়, শুধু তৃণমূলের কোল খালি করার চেষ্টা চলছে। মুখ খুলতে বাধ্য করবেন না। গত ১০ বছরে কে কী করেছেন, সব জানি।”

সোমবার রাতের ঘটনাও বক্তব্যে তুলে আনেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ২১ জুলাইয়ের সভা বানচাল করার উদ্দেশ্যে সভাস্থলের বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ওরা এখন তারকাটা পার্টি হয়ে গেছে।”

সভায় উপস্থিত শহিদ পরিবারের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে মমতা বলেন, নানা ধরনের চাপ ও প্রলোভন সত্ত্বেও তাঁরা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের এই উপস্থিতিকে তিনি গণতন্ত্রের প্রতি আস্থার প্রতীক বলেও উল্লেখ করেন।

বক্তব্যের শেষদিকে আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচির ইঙ্গিত দেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, “এবার আমি জেলায় জেলায় বেরোব। কোথায় আমাকে আটকানো হয়, সেটা দেখব।” মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময়ও তাঁকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক ভাষণ স্পষ্ট করে দিল, আগামী দিনে বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং দলীয় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পথেই হাঁটতে চাইছে তাঁর শিবির। পাশাপাশি বিদ্রোহী শিবিরের প্রতি কোনওরকম নরম মনোভাব দেখানোর সম্ভাবনাও কার্যত উড়িয়ে দিলেন তিনি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন