সংসদ অভিযানের আগে সোনম ওয়াংচুকের খোলা চিঠি, ৩ শর্তের একটি মানলেই ভাঙবেন অনশন
শিক্ষাব্যবস্থার জবাবদিহির দাবিতে চলা অনশন ঘিরে নতুন মোড়। সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগে হাতে লেখা খোলা চিঠিতে তিনটি শর্ত জানালেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। যে কোনও একটি পূরণ হলেই অনশন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত।
সংসদ অভিযানের আগে তিনটি শর্ত জানিয়ে অনশন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিলেন সোনম ওয়াংচুক।
দীর্ঘ অনশনের পর অবশেষে অবস্থান বদলের ইঙ্গিত দিলেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে প্রকাশ্যে আনা এক হাতে লেখা খোলা চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, সরকার তাঁর দেওয়া তিনটি শর্তের মধ্যে যে কোনও একটি পূরণ করলেই তিনি অনশন প্রত্যাহার করতে প্রস্তুত। তবে দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও বার্তা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তর থেকে তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল, শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তিনি অনশন ভাঙবেন কি না। যদিও হাসপাতালের বেড থেকেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য থেকে তিনি একচুলও সরছেন না।
খোলা চিঠিতে কী লিখলেন সোনম ওয়াংচুক?
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত নিজের হাতে লেখা চিঠিতে সমর্থকদের উদ্দেশে ওয়াংচুক জানান, তিনি আগেই বলেছিলেন ২০ জুলাই অনশন প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তার জন্য সরকারের তরফে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ প্রয়োজন।
চিঠিতে তিনি তিনটি শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন। সেগুলির মধ্যে রয়েছে—
শিক্ষাব্যবস্থার সাম্প্রতিক ব্যর্থতার দায় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করবে।
তিনি ও সংশ্লিষ্ট নেতৃত্ব সংসদে গিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদদের কাছ থেকে বিষয়টি সংসদে তোলার আশ্বাস পাবেন।
যদি শারীরিক কারণে সংসদে যাওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদরা হাসপাতালে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করে একই আশ্বাস দেবেন।
ওয়াংচুকের বক্তব্য, এই তিনটির মধ্যে যে কোনও একটি বাস্তবায়িত হলেই তিনি অনশন ভাঙতে প্রস্তুত।
স্ত্রীও দিয়েছিলেন একই ইঙ্গিত
এর আগেই ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলী আঙ্গমো জানিয়েছিলেন, রাজনৈতিক দলগুলি যদি শিক্ষা সংক্রান্ত দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে সংসদে আলোচনার নিশ্চয়তা দেয় এবং সরকার জবাবদিহি করতে রাজি হয়, তাহলে সোনম অনশন প্রত্যাহার করতে পারেন।
তবে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করলেও এখনও পর্যন্ত তিনি কোনও তরল খাবারও গ্রহণ করেননি বলে দাবি পরিবারের।
সংসদ অভিযানের ডাক, নিরাপত্তা কড়া দিল্লিতে
সোমবার থেকেই শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। একই দিনে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ওয়াংচুকের সমর্থক সংগঠন। আন্দোলনে সাধারণ মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
খোলা চিঠিতে ওয়াংচুক স্পষ্ট লিখেছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা যেমনই থাকুক না কেন, দাবি পূরণ না হলে সংসদ অভিযানের পরেও অনশন চালিয়ে যাবেন।
অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই সংসদ ভবনের দিকে মিছিলের অনুমতি দেয়নি। সংসদ চত্বর ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা অনুমতি ছাড়া এগোলে পুলিশি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশন এবং ওয়াংচুকের শর্ত ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলের নজর দিল্লির দিকেই। সরকার বা রাজনৈতিক দলগুলির তরফে কী পদক্ষেপ করা হয়, তার উপরই নির্ভর করছে তাঁর দীর্ঘ অনশনের ভবিষ্যৎ।