একের পর এক আইনি জটিলতায় ঘিরে ফেলছে বীরভূমের প্রাক্তন প্রভাবশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)-কে। ইটভাটা সংক্রান্ত অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগেও তাঁর নাম উঠে এসেছে। সিউড়ি জেলা আদালত (Suri District Court)-এর নির্দেশে পুলিশ অনুব্রত-সহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সদাইপুর এলাকার বাসিন্দা কল্যাণ ঘোষের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই মামলার সূত্রপাত। অভিযোগ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত চাকরি মেলেনি। পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও দীর্ঘদিন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন অভিযোগকারী। এরপর তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।
আদালতের নির্দেশের পর সিউড়ি থানা (Suri Police Station) পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে। ইতিমধ্যেই তদন্ত সংক্রান্ত প্রাথমিক রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মামলায় দু’টি অজামিনযোগ্য ধারাও যুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি।
মামলায় সরাসরি অর্থ লেনদেনের অভিযোগে প্রসেনজিৎ ঘোষ, তন্দ্রা ঘোষ এবং উত্তম ঘোষের নাম রয়েছে। পাশাপাশি প্রভাব খাটিয়ে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল, প্রাক্তন বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা (Jiban Krishna Saha) এবং বীরভূম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের তৎকালীন সভাপতি রাজা ঘোষের নামও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর আইনজীবী সোমনাথ মুখোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁর মক্কেল বহু আগে থেকেই পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ গ্রহণ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়। তাঁর অভিযোগ, চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়নি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন বিষয়টি সামনে আসেনি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কয়েক দিন আগেই অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে ইটভাটা থেকে বিপুল পরিমাণ ইট নেওয়া এবং মূল্য পরিশোধ না করার অভিযোগে পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালে একটি দলীয় কার্যালয়ের নির্মাণকাজের সময় প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ইট নেওয়া হলেও সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। টাকা চাইতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত এই নতুন মামলার ফলে অনুব্রত মণ্ডলের আইনি জটিলতা আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তদন্তের অগ্রগতির উপর নির্ভর করবে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ। তবে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগগুলির বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির সত্যতা আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।



