লোকসভায় অসংসদীয় আচরণের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)-কে গোটা বাদল অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করার পর রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এনসিপিআই (NCPI)-এর সাংসদ মিতালী বাগ (Mitali Bag)-এর সঙ্গে বচসা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগের মধ্যেই এবার কল্যাণের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন তৃণমূলের সাংসদ শতাব্দী রায় (Satabdi Roy)। তাঁর অভিযোগ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই মহিলা সাংসদদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে আসছেন।
সংসদ সূত্রে জানা গিয়েছে, লোকসভায় এনসিপিআই সাংসদ মিতালী বাগের সঙ্গে তর্কাতর্কির সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এনসিপিআইয়ের অন্যান্য সাংসদও প্রতিবাদে সরব হন। অভিযোগ, একপর্যায়ে বচসা প্রায় হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছে যায়। একই ঘটনায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব (Bhupender Yadav)-এর প্রতিও অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগ উঠেছে।
এরপর এনসিপিআই সাংসদরা লোকসভার স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তাঁদের দাবি, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার মহিলা সাংসদদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন এবং সংসদের মর্যাদার পরিপন্থী আচরণ করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল (Arjun Ram Meghwal) লোকসভায় অসংসদীয় আচরণের প্রস্তাব আনেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সেই প্রস্তাব গৃহীত হলে গোটা বাদল অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করা হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
এই ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। তিনি বলেন, “কল্যাণদা এটা সবসময় করেন। সবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। মহিলাদের গালাগালি দেন। একদম নিচু স্তরের ভাষা ব্যবহার করেন। এই নিয়ে আগেই দিদির কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। দিনের পর দিন ওঁর সাহস বেড়েই গিয়েছে। কোনও মহিলা ওঁকে সমর্থন করেন না। আমরা স্পিকারের কাছেও অভিযোগ করেছি। স্পিকারকে ধন্যবাদ।”
শতাব্দীর এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, বিরোধী দলের অভিযোগের পাশাপাশি এবার একই দলের এক সাংসদের মুখেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে এল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় ভাঙনের পর লোকসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা কমে এসেছে। সেই পরিস্থিতিতে সংসদে দলের অন্যতম সোচ্চার মুখ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশন এবং তার পরপরই দলীয় সাংসদের এমন প্রকাশ্য সমালোচনা তৃণমূলের অন্দরের অস্বস্তিকেই আরও সামনে নিয়ে এল।
অন্যদিকে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও পর্যন্ত এই নতুন অভিযোগগুলির বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি। ফলে ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



