তৃণমূলে বড় ভাঙনের ইঙ্গিত! প্রকাশ্যে ১৯ সাংসদের সই, সামনে এল বিক্ষুব্ধদের পূর্ণ তালিকা

কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে স্পিকারের দফতরে জমা পড়া চিঠিতে ১৯ তৃণমূল সাংসদের স্বাক্ষর ঘিরে জোর বিতর্ক। তারিখ নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লির রাজনৈতিক অন্দরে চলা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সামনে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি। সূত্রের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের ১৯ জন সাংসদের স্বাক্ষর-সহ একটি চিঠি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দফতরে জমা পড়েছে। সেই নথি প্রকাশ্যে আসতেই স্পষ্ট হয়েছে, দলের কোন কোন সাংসদ বিক্ষুব্ধ শিবিরের সঙ্গে নিজেদের নাম যুক্ত করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বেই ওই চিঠি জমা দেওয়া হয়। গত কয়েক দিন ধরে দিল্লিতে একাধিক বৈঠক এবং রাজনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই এই চিঠিকে ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। অনেক সাংসদ প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য না করলেও তাঁদের স্বাক্ষর ওই তালিকায় দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

চিঠিতে যাঁদের নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, বাপি হালদার, ড. শর্মিলা সরকার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, অসিত কুমার মাল, অরূপ চক্রবর্তী, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান, ইউসুফ পাঠান, মিতালি বাগ, মালা রায়, কালীপদ সোরেন, দীপক অধিকারী (দেব), জুন মালিয়া এবং পার্থ ভৌমিক।

রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে কয়েকজন পরিচিত মুখের নাম ঘিরে। কারণ, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ প্রকাশ্যে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সমর্থনের কথা বললেও, ওই চিঠিতে তাঁদের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি উঠেছে। ফলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে।

প্রকাশ্যে ১৯ সাংসদের সই, সামনে এল বিক্ষুব্ধদের পূর্ণ তালিকা
প্রকাশ্যে ১৯ সাংসদের সই, সামনে এল বিক্ষুব্ধদের পূর্ণ তালিকা

তবে চিঠিকে ঘিরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে তারিখ সংক্রান্ত বিষয়ে। কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, চিঠিটি জমা পড়ে ৮ জুন। কিন্তু প্রকাশ্যে আসা নথিতে ১৮ জুন তারিখের উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই অসঙ্গতি নিয়েই রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সূত্রের খবর, চিঠি জমা দেওয়ার সময় কাকলি ঘোষ দস্তিদার নিজেকে লোকসভার চিফ হুইপ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। দাবি করা হচ্ছে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিফ হুইপ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আগেই ওই নথি স্পিকারের দফতরে জমা দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে তৃণমূলের একাংশের বক্তব্য, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন চিফ হুইপের বিষয়ে স্পিকারকে পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল।

এই স্বাক্ষরিত চিঠি ঘিরে আগামী দিনে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় অবস্থান, সাংসদদের ভূমিকা এবং চিঠির বৈধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে রাজনৈতিক মহলে।

প্রকাশ্যে ১৯ সাংসদের সই, সামনে এল বিক্ষুব্ধদের পূর্ণ তালিকা
প্রকাশ্যে ১৯ সাংসদের সই, সামনে এল বিক্ষুব্ধদের পূর্ণ তালিকা

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর