“তুমি পাগল হয়ে যাচ্ছ”, “তোমার মনে হচ্ছে, এমন কিছু হয়নি”, “তুমি বড্ড বেশি সেনসিটিভ”— সম্পর্কে থেকেও যদি এই কথাগুলো প্রায়ই শুনতে হয়, তাহলে সাবধান! আপনি হয়তো ‘গ্যাসলাইটিং’ (Gaslighting)-এর শিকার। এটা একধরনের মনস্তাত্ত্বিক অত্যাচার, যেখানে আপনার সঙ্গী বা কাছের মানুষ আপনাকে মানসিক ভাবে বিভ্রান্ত করে তোলে। কিন্তু কীভাবে বুঝবেন আপনার আবেগকে ব্যবহার করা হচ্ছে? চলুন, মনোবিদদের মতে জেনে নেওয়া যাক ৫টি স্পষ্ট লক্ষণ।
১. আপনার স্মৃতিশক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা
আপনি নিশ্চিত যে, এই কথাটা গতকাল বলেছে সে। কিন্তু সঙ্গী যখন জোরগলায় বলে, “তুমি ভুল শুনেছ, আমি এমন কিছু বলিনি”, বারবার এমনটা হলে আপনি নিজের স্মৃতিশক্তি নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করেন। এটাই গ্যাসলাইটিং-এর প্রথম ধাপ। মনোবিদরা বলেন, এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে নিজের বিচারবুদ্ধি হারাতে থাকেন।
২. আপনার আবেগকে ‘অতিরিক্ত’ বলে উড়িয়ে দেওয়া
আপনার কষ্ট পাওয়া, রাগ করা বা কান্নাকে সঙ্গী যদি বলে, “এটা নিয়ে এত ভাবার কী আছে? তুমি বড্ড নাটক করছ”, তাহলে বুঝতে হবে আপনার আবেগকে খাটো করা হচ্ছে। সম্পর্কে সম্মান থাকলে কেউ অন্যের অনুভূতিকে এভাবে উড়িয়ে দেয় না।
৩. আপনাকে অপরাধী বানানোর চেষ্টা
যে ঘটনার দায় সম্পূর্ণ তার, সেই ঘটনাকে ঘুরিয়ে দিয়ে বলা— “তোমার জন্যই তো এমনটা হল। তুমি যদি ওই কাজটা না করতে, তাহলে আমাকে এমন করতে হত না।” এটা গ্যাসলাইটিং-এর ক্লাসিক সাইন। এভাবে বারবার দোষ চাপিয়ে আপনাকে মানসিক ভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়।
৪. বন্ধু-পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা
সঙ্গী যদি বলে, “তোমার বন্ধুরা তো তোমার ভালো চায় না, ওরা তোমাকে ভুল বোঝাচ্ছে”, তাহলে সাবধান হোন। গ্যাসলাইটার চায়, আপনি যেন শুধু তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এর জন্য তারা আপনাকে আপনার কাছের মানুষদের থেকে মানসিক ভাবে দূরে সরিয়ে দেয়।
৫. বারবার ‘পাগল’ বা ‘মেন্টাল’ বলে খোঁটা দেওয়া
ঝগড়ার সময় বা রাগের মাথায় কেউ যদি আপনাকে নিয়মিত ‘পাগল’, ‘মেন্টাল’ বা ‘তোর মাথায় গন্ডগোল আছে’ বলে অপমান করে, তাহলে বুঝতে হবে এটা টক্সিক সম্পর্ক (Toxic Relationship)। ভালোবাসার সম্পর্ক কখনও মানসিক রোগ নির্ণয়ের জায়গা হতে পারে না।
শেষ কথা
মনে রাখবেন, ভালোবাসার সম্পর্কে আপনার আবেগের মূল্য থাকা উচিত। যদি এই ৫টি লক্ষণের মধ্যে ২-৩টাও আপনার জীবনে ঘটে, তাহলে দেরি না করে বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে কথা বলুন বা মনোবিদের পরামর্শ নিন। আপনি একা নন। আবেগ ব্যবহারকারীদের থেকে বেরিয়ে আসার সাহসই জীবনে অনেক বড় জয়।



